অধিকারের প্রশ্নে আপস নয়! মাস্কাটে মার্কিন প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে কড়া বার্তা ইরানের

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুরু হলো ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা। শুক্রবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান “খোলা চোখে” এবং পূর্বের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসছে। তবে জাতীয় স্বার্থ বা পরমাণু কর্মসূচির অধিকারের প্রশ্নে ইরান যে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
মাস্কাট বৈঠকের গুরুত্ব: ওমানে পৌঁছানোর পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ আরাঘচি বলেন, “আমরা সমমর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই। তবে এর জন্য আমেরিকার পক্ষ থেকেও প্রকৃত প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।” উল্লেখ্য, এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাবশালী উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের হয়ে আলোচনার হাল ধরেছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভাঞ্চি এবং হামিদ কানবারির মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা।
প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ: ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ওমানে পরিকল্পিত ষষ্ঠ দফার আলোচনা ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জেরে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনার পর এই প্রথম দুই দেশ সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসল। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক হুমকির মধ্যে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য একটি “মর্যাদাপূর্ণ এবং পারস্পরিক সন্তোষজনক” চুক্তি অর্জন করা। এখন দেখার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তেহরান কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছাতে পারে কি না।