বিহার ক্রিকেটে ৯০ বছরের খরা কাটল! ১৯৩৫-এর পর এই প্রথম পাটনায় ২-২টি মেগা ফাইনাল

বিহার ক্রিকেটের আকাশে এখন সাফল্যের সূর্য। দীর্ঘ ৯ দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাটনার মইনুল হক স্টেডিয়াম এখন ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বিসিএ (BCA) মিডিয়া ম্যানেজার অভিষেক তিওয়ারি জানিয়েছেন, ১৯৩৫ সালের পর এই প্রথম একই মরশুমে দুটি বড় বিসিসিআই টুর্নামেন্টের ফাইনাল আয়োজন করছে বিহার। সম্প্রতি রঞ্জি ট্রফি প্লেট গ্রুপের ফাইনাল সাফল্যের সঙ্গে আয়োজনের পর আজ থেকে শুরু হয়েছে কর্নেল সিকে নাইডু ট্রফির মেগা ফাইনাল।

রেকর্ডের বন্যায় ভাসছে বিহার: ২০২৫-২৬ মরশুমটি বিহার ক্রিকেটের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে খোদাই করা থাকবে। রঞ্জি ট্রফির প্লেট গ্রুপে মণিপুরকে ৫৬৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিমধ্যেই এলিট গ্রুপে জায়গা করে নিয়েছে বিহার। শুধু তাই নয়, বিজয় হাজারে ট্রফি জিতেও এলিট স্তরে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করেছে তারা।

বিশ্বমঞ্চে বিহারের হুঙ্কার: বিহারের ক্রিকেট এখন আর কেবল আঞ্চলিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ৫৭৪ রানের পাহাড় গড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বিহার দল। ব্যক্তিগত অর্জনেও চমক দিয়েছেন বিহারের ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক সাকিবুল গণি মাত্র ৩২ বলে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছেন। অন্যদিকে, ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করে পাকিস্তানের জহুর এলাহির ৩৯ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী।

এলিট মর্যাদার পথে বিহার: বর্তমানে নাগাল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিকে নাইডু ট্রফির ফাইনাল খেলছে বিহার। এই ম্যাচে জয় পেলেই অনূর্ধ্ব-২৩ বিভাগেও এলিট গ্রুপে প্রবেশ করবে তারা। একই সঙ্গে বিহারের মহিলা ক্রিকেট দলও আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নেমেছে, যা জিতলে তারাও এলিট মর্যাদার অধিকারী হবে। বিসিএ-র কথায়, আগে বিহারের প্রতিভা ছিল “বনে ময়ূর নাচার” মতো যা কেউ দেখত না, কিন্তু এখন বিহারের পারফরম্যান্স পুরো বিশ্ব দেখছে। আসন্ন আইপিএলেও বিহারের তিন জন ক্রিকেটারকে দেখা যাবে, যা রাজ্যের ক্রিকেটে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।