বন্দুক ছেড়ে হাতে নিলেন কমণ্ডলু! দুই যুদ্ধের নায়ক সুবেদার এখন শিবপুরীর সন্ন্যাসী

একসময় কাঁধে ছিল রাইফেল, পরনে সেনার উর্দি আর চোখে শত্রুকে খতম করার সংকল্প। আজ সেই মানুষটিই জাগতিক মায়া কাটিয়ে অঙ্গে জড়িয়েছেন গেরুয়া বসন। মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের নায়ক হলেন প্রাক্তন সুবেদার মঙ্গল ভারতী। দেশের সীমান্ত রক্ষা থেকে আধ্যাত্মিকতার পথে তাঁর এই যাত্রা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
১৯৬২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন মঙ্গল ভারতী। দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি ১৯৬২-র চিন যুদ্ধ এবং ১৯৬৫-র পাকিস্তান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে সুবেদার পদ থেকে অবসর নেন তিনি। কিন্তু সেনার কঠোর ডিসিপ্লিনের মাঝেও কীভাবে তিনি সন্ন্যাসের পথে এলেন? মঙ্গল ভারতী জানান, চাকরির শেষ দিকে হরিদ্বার ও ঋষিকেশের কাছে রাইওয়ালায় তাঁর পোস্টিং ছিল। ডিউটির পর তিনি প্রায়ই বিভিন্ন আশ্রমে সাধু-সন্তদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতেন। সেই সময় থেকেই তাঁর মনে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং তিনি স্থির করেন অবসরের পর জীবনকে ঈশ্বরের নামে উৎসর্গ করবেন।
বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরীর আদি বাসিন্দা মঙ্গল ভারতী শিবপুরী জেলা সদর থেকে ২৫ কিমি দূরে জগন্নাথ ধাম সুরভায়া গড়ি আশ্রমে বসবাস করছেন। ধ্যান ও জনসেবাই এখন তাঁর দিনের মূল কাজ। পুরনো দিনের কথা মনে করে তিনি বলেন, একসময় তিনি .৩০৩ রাইফেল চালাতেন, যার পাল্লা ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার। তাঁর আক্ষেপ, তৎকালীন সময়ে ভারতীয় সেনার হাতে আধুনিক অস্ত্র থাকলে যুদ্ধের ফলাফল আরও অন্যরকম হতে পারত। সীমান্তের লড়াই হোক বা অন্তরের শান্তি—মঙ্গল ভারতীর জীবন প্রমাণ করে দেয় যে কর্ম ও ধর্ম আসলে একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।