কালীঘাটে যেত ৭৫ শতাংশ! পুলিশ কর্তার বাড়িতে ইডি হানায় শুভেন্দুর ‘বিস্ফোরক’ দাবি

মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (Enforcement Directorate) ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের একাধিক প্রান্তে একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামেন আধিকারিকরা। তবে এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাসভবন। পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে ইডির এই হানা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া এবং বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশ আধিকারিকরা কেবল নিমিত্ত মাত্র; দুর্নীতির মূল শিকড় অনেক গভীরে। তিনি দাবি করেন, জেলাস্তরের অনেক পুলিশ আধিকারিক টাকা জমানোর বা ‘স্টক’ করার কাজ করেন। শুভেন্দুর কথায়, “এরা সব টাকা স্টক করত। হিসাবটা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট— সংগৃহীত টাকার ২৫ শতাংশ নিজেরা রেখে বাকি ৭৫ শতাংশ কালীঘাটে পাঠিয়ে দেওয়া হত।” বিরোধী দলনেতার এই সরাসরি আক্রমণ শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকেই ইঙ্গিত করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। তিনি বুদবুদ থানার ওসির বাড়িতে হানা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘হাওয়াই চটি’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “ওসি নাম মাত্র, আসল সুবিধাভোগীর নাম হাওয়াই চটি।” এই প্রতীকি শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ফের একবার রাজ্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তোলাবাজির একটি নির্দিষ্ট চেইন তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা তছরুপ হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। নিয়োগ দুর্নীতি বা অন্য কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে এই যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ওসির বাড়িতে ইডি হানা এবং শুভেন্দুর এই চাঞ্চল্যকর দাবি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনার সৃষ্টি করেছে।