মণিপুরে অবশেষে মুছছে অন্ধকার! রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ঘটিয়ে মসনদে বসছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী

দীর্ঘ এক বছরের অস্থিরতা ও রাষ্ট্রপতি শাসনের বেড়াজাল কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুর। গোষ্ঠী সংঘর্ষে দীর্ণ এই রাজ্যে অবশেষে নতুন সরকার গঠিত হতে চলেছে। সূত্রের খবর, মণিপুর বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা অভিজ্ঞ বিজেপি নেতা ইউনাম খেমচাঁদ সিং রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। বুধবারই তাঁর শপথ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে এনডিএ বিধায়কদের এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তরুণ চুগ এবং সম্বিত পাত্রসহ শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর সর্বসম্মতিতে খেমচাঁদ সিংকে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর খেমচাঁদ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, “রাজ্যে শান্তি, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। মেইতেই, কুকি ও নাগা—সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে তুলতে আমি নিবেদিত থাকব।”
মণিপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বজায় রাখতে এবার দু’জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের পথে হাঁটছে বিজেপি। সূত্রের খবর, কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত নেমচা কিপজেন রাজ্যের অন্যতম উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। এছাড়া গোবিন্দ দাসকে রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সোমবার মণিপুর ভবনে এনপিপি, এনপিএফ এবং নির্দল বিধায়কদের উপস্থিতিতে এক বৈঠকে সকলেই খেমচাঁদকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন। ৬২ বছর বয়সি খেমচাঁদ সিং পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং সিঙ্গজামে কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক। এন বীরেন সিং সরকারের প্রাক্তন এই মন্ত্রী সব গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবেই পরিচিত।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে মেইতেই ও কুকি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল মণিপুর। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩০০-র বেশি মানুষ। পরিস্থিতির চাপে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন এন বীরেন সিং এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরেন সিংয়ের বিরোধী হিসেবে পরিচিত খেমচাঁদকে সামনে রেখে মণিপুরে বিবদমান গোষ্ঠীগুলির মধ্যে শান্তি ও বিশ্বাসের বাতাবরণ ফেরাতে চাইছে বিজেপি। এখন দেখার, নতুন এই সরকার মণিপুরের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস মুছে শান্তির নতুন ভোর আনতে পারে কি না।