রণক্ষেত্রের মুখে হরমুজ প্রণালী! মার্কিন রণতরীর দাপটে পিছু হঠল চিনা জাহাজ, এবার কি জ্বালানি সঙ্কট?

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের কালো মেঘ! হরমুজ প্রণালীতে চরম নাটকীয় মোড়। আমেরিকার কড়া নিষেধাজ্ঞা আর নজরদারির বেষ্টনী ভেদ করতে পারল না চিনা তেলের ট্যাঙ্কার। মঙ্গলবার বুক ফুলিয়ে রওনা দিলেও, মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের বাধার মুখে পড়ে বুধবার ফের হরমুজ প্রণালীতেই ফিরে আসতে বাধ্য হল জাহাজটি।
আমেরিকার ‘ব্লকেড’ ও চিনা জাহাজের হার
ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তান-ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, শত্রু হোক বা বন্ধু—ইরানের জলপথ ব্যবহার করে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। এই কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই এগোতে চেয়েছিল চিনা জাহাজ ‘রিচ স্টারি’ (Rich Starry)। কিন্তু ইউএস সেন্ট্রাল কম্যান্ডের নজর এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) মার্কিন বাহিনী দাপটের সঙ্গে জানিয়েছে, “প্রথম ২৪ ঘণ্টায় একটি জাহাজও আমেরিকার অবরোধ বেষ্টনী পার করতে পারেনি।” শুধু চিনা জাহাজই নয়, মোট ৬টি জাহাজকে মাঝসমুদ্র থেকে মুখ ঘুরিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।
রুদ্ধশ্বাস অভিযান: আটকে গেল ২.৫ লক্ষ ব্যারেল জ্বালানি
জানা গিয়েছে, সাংহাই শুয়ানরান শিপিং কোম্পানির মালিকানাধীন এই চিনা জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হামরিয়াহ পোর্ট থেকে আড়াই লক্ষ ব্যারেল মেথানল নিয়ে আসছিল। কিন্তু ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি থাকায় এই জাহাজ ও তার মালিক সংস্থার ওপর আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল ওয়াশিংটন। চাবাহার বন্দর থেকে বের হতে যাওয়া দুটি তেলের ট্যাঙ্কারকেও আটকে দিয়েছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার।
কেন ঘনিয়ে আসছে বিশ্বজুড়ে বিপদ?
এই সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন:
জ্বালানি সঙ্কট: হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথ। এটি অবরুদ্ধ হলে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল-ডিজেলের আকাল দেখা দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা: বড় বড় তেল কোম্পানি ও শিপিং সংস্থাগুলি এখন চরম আতঙ্কে।
যুদ্ধের আবহ: আমেরিকার এই হার্ডলাইন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনো যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা।