ছত্তিশগড়ে শ্মশানের নীরবতা! ১০০০ শ্রমিকের মাঝে ফাটল বয়লার, লাফিয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা

ছত্তিশগড়ের সকতী জেলায় অবস্থিত বেদান্ত লিমিটেডের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ঘটে গেল এক প্রলয়ঙ্কারী দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার দুপুরে কাজ চলাকালীন একটি বিশাল বয়লারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন শ্রমিক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও অনেকে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মৃত্যুর আর্তনাদ ও রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত
মঙ্গলবার দুপুর ঠিক আড়াইটে। সিঙ্ঘিতরাই এলাকার ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে তখন শিফট বদলের তোড়জোড় চলছিল। কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০০০ জন শ্রমিক। হঠাৎই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিশাল বয়লারে। ঠিক সেই মুহূর্তে বয়লারটির একদম কাছে কাজ করছিলেন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক। আগুনের হলকা আর উত্তপ্ত বাষ্পে মুহূর্তের মধ্যে নরককুণ্ডে পরিণত হয় চারপাশ। প্রাণভয়ে শ্রমিকরা ছোটাছুটি শুরু করলে এক চরম বিশৃঙ্খল ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
উদ্ধারকাজ ও হাসপাতালের ছবি
বিস্ফোরণের খবর পেয়েই দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন স্থানীয় মানুষ ও দমকলকর্মীরা। ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বাকিদের উদ্ধার করে দ্রুত রায়গড় ও বিলাসপুরের হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI) জানাচ্ছে, বর্তমানে ২১ জন শ্রমিক গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
মুখ্যমন্ত্রীর শোক ও কড়া পদক্ষেপ
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেব সাই। তিনি মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আহতদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের নির্দেশ
কীভাবে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটল? এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি নেপথ্যে রয়েছে চরম গাফিলতি? তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “যাঁর গাফিলতিতেই এই রক্তপাত ঘটুক না কেন, দোষীদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না।”
বেদান্ত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই ভয়াবহ বিপর্যয় ফের একবার শিল্পক্ষেত্রগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।