‘মোদী জমানায় সুপার এমার্জেন্সি!’ ২০২৬-এর আগে মমতার বিস্ফোরক অভিযোগে কাঁপছে দিল্লি

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, বাগ্যুদ্ধ ততই তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ‘সুপার এমার্জেন্সি’ বা চরম জরুরি অবস্থা জারির অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশে এক অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে, যেখানে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে দমন করা হচ্ছে। মমতার এই মন্তব্য কি নিছকই রাজনৈতিক কৌশল না কি গণতন্ত্রের জন্য সত্যিকারের বিপদঘণ্টি?
তৃণমূল নেত্রীর এই আক্রমণকে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলছেন। বাংলায় যখনই কোনও দুর্নীতির তদন্ত হয় বা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি সক্রিয় হয়, তখনই গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার দোহাই দেওয়া হয়। পাল্টা হিসেবে বিজেপি ১৯৭৫ সালের ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলছে, “আসল জরুরি অবস্থা কী, তা ভারতবাসী জানে। বাংলায় যা চলছে তাকে বরং ‘মিনি পাকিস্তান’ বা ‘গণতন্ত্রহীন রাজ্য’ বলাই শ্রেয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর ভোটের আগে জাতীয় স্তরে মোদী বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠাই মমতার লক্ষ্য। এই ‘সুপার এমার্জেন্সি’ তকমা দিয়ে তিনি একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কুড়োতে চাইছেন, তেমনই দিল্লিকে বার্তা দিচ্ছেন যে তিনি সহজে পিছু হটবেন না। মমতা বনাম মোদী—এই দ্বৈরথ এখন আর কেবল রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তা আক্ষরিক অর্থেই জাতীয় রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।