ছত্তিশগড়ে চিকিৎসার চেয়ে ‘ফায়ার এনওসি’ নিয়ে হুলুস্থুল! বন্ধ হওয়ার মুখে হাজারো ক্লিনিক?

ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্য পরিষেবা এক গভীর সংকটের মুখে। রাজ্য সরকারের জারি করা অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা (Fire NOC) এখন রোগী দেখার চেয়ে ডাক্তারদের কাছে বেশি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৫ নভেম্বর, ২০২৫-এ জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ছোট ক্লিনিক থেকে শুরু করে মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল—সবার জন্যই একই কঠোর নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন আইনি জটিলতা বাড়ছে, অন্যদিকে চিকিৎসার খরচও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অবাস্তব নিয়ম ও আর্থিক বোঝা: নতুন নিয়মে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ অনুমোদিত ‘থার্ড পার্টি’ অডিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাসপাতালগুলিকে প্রতি বর্গফুটে প্রায় ১০ টাকা (জিএসটি বাদে) অডিট ফি দিতে হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথকেয়ার প্রোভাইডার্স ইন্ডিয়া (AHPI)-র ছত্তিশগড় শাখার সভাপতি ডাঃ রাকেশ গুপ্তা জানিয়েছেন, একটি ২০০ শয্যার হাসপাতালকে বছরে গড়ে ৪ লক্ষ টাকা শুধুমাত্র অডিটেই খরচ করতে হচ্ছে। ছোট ক্লিনিক বা নার্সিং হোমগুলোর পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব।
লাইসেন্স বাতিল ও বন্ধের আশঙ্কা: সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, ফায়ার এনওসি না থাকলে স্বাস্থ্য বিভাগ নার্সিং হোম আইনের অধীনে লাইসেন্স নবায়ন করছে না। এর ফলে বহু পুরনো হাসপাতাল আইনি গ্যাঁড়াকলে আটকে পড়েছে। অনেক পুরনো ভবনে পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, ফলে সেগুলোকে হয় বন্ধ করতে হবে অথবা বেআইনিভাবে চলতে হবে। যদি ছোট নার্সিং হোমগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
অন্য রাজ্যের উদাহরণ ও দাবি: মধ্যপ্রদেশ বা অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো ছোট হাসপাতালের জন্য সহজ নিয়ম ও দীর্ঘমেয়াদী লাইসেন্সের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু ছত্তিশগড়ে প্রতি বছর এই ব্যয়বহুল নবায়ন প্রক্রিয়া ডাক্তারদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। ডাক্তারদের দাবি, নার্সিং হোম লাইসেন্সের মতো ফায়ার এনওসির মেয়াদও ৫ বছর করা হোক এবং অডিট ফি কমানো হোক। সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে রাজ্যের বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।