মমতা বনাম নির্বাচন কমিশন: তুঙ্গে সংঘাত! ২ কোটি ভোটারের নাম বাদ? উত্তপ্ত বাংলা

২০২৬-এর বঙ্গ নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই বেনজির সাংবিধানিক সংকটের মুখোমুখি পশ্চিমবঙ্গ। ইস্যু—স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে খোদ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেষ কুমারের সঙ্গে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন সদনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে পরিস্থিতি তৈরি হলো, তাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বৈঠকে কী এমন ঘটল? সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং SIR-এর কোপে পড়া পরিবারগুলিকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁর সঙ্গে চরম ‘অহংকারী’ ও ‘অপমানজনক’ ব্যবহার করেছেন। মমতার সাফ কথা, “ওঁদের কাছে বিজেপির ক্ষমতা আছে, আমাদের কাছে জনশক্তি। নির্বাচন কমিশন কি ভোট হওয়ার আগেই সরকার ঠিক করে দিতে চায়?” তৃণমূলের দাবি, প্রায় ১০০ জন মানুষকে মমতা সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলেন যাঁদের ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, অথচ তাঁরা সশরীরে উপস্থিত।

তৃণমূলের বিস্ফোরক দাবি: তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি অনুযায়ী, বাংলায় প্রায় ২ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনী নির্ঘণ্টের আগে কেন অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যে SIR হলো না, অথচ বাংলা ও তামিলনাড়ুকে টার্গেট করা হলো? মমতার আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, বিএলও-দের (BLO) ওপর অত্যাধিক চাপ সৃষ্টির ফলে অন্তত ১৫০ জন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

পাল্টা জবাব কমিশনের: পাল্টা বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সওয়াল শুনেছেন কিন্তু জবাব শোনার ধৈর্য দেখাননি। সিইসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইনি পথেই কাজ হবে এবং তালিকায় কোনো ভুয়ো ভোটার রাখা যাবে না। কমিশনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বাংলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূল কর্মীরা।

পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ: ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ৫৮.২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে যা মোট ভোটারের ৭.৬%। বিরোধীদের দাবি, এটি অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়া ভোটারদের সরানোর প্রক্রিয়া। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ২৮ জানুয়ারি এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। মামলার জল এখন কতদূর গড়ায় এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।