কে এই সীমা খান্না? যাঁর ভয়ে কাঁপে ঘাসফুল শিবির, বিস্ফোরক মমতা-অভিষেক!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে আলোচিত নাম ‘সীমা খান্না’। সাধারণ মানুষের কাছে এই নাম অপরিচিত হলেও, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় এখন এই দুঁদে আইটি অফিসার। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, এই সীমা খান্নাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
মমতার গুরুতর অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই নেপথ্যে কাজ করেছেন সীমা খান্না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “উনি নির্বাচন কমিশনের কেউ নন, আসলে বিজেপির আইটি সেলের লোক হিসেবে কাজ করছেন।” এই ‘রহস্যময়ী’ মহিলার ভূমিকা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
অভিষেকের পুরোনো নিশানায় সীমা: মুখ্যমন্ত্রীর আগে ডিসেম্বর মাসেই সীমা খান্নার নাম প্রকাশ্যে এনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে যে গোলযোগ হচ্ছে, তার নেপথ্যেও এই অফিসার রয়েছেন। অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে এমন কিছু তথ্যপ্রমাণ ও স্ক্রিনশট রয়েছে যা তিনি সুপ্রিম কোর্টে জমা দেবেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কার অঙ্গুলিহেলনে সীমা এই কাজগুলো করছেন?
আসল পরিচয় কী সীমা খান্নার? কে এই সীমা খান্না? জানা গিয়েছে, তিনি বিহারের বাসিন্দা এবং অত্যন্ত দক্ষ একজন পেশাদার ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে ভারত সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্ত মন্ত্রকের (MeitY) অধীনে থাকা ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের (NIC) উপ-মহাপরিচালক এবং অপারেশনস ডিরেক্টর। ২৫ বছরেরও বেশি কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোয় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কোভিডকালীন সময়ে দেশজুড়ে সাড়া জাগানো ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপটিও তাঁর হাতেই তৈরি। পাটনার নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে স্নাতক হওয়ার পর দিল্লির একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান তিনি। সরকারের সাইবার নিরাপত্তা এবং আইটি নীতি প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হলেও, কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে তাঁকে একজন উচ্চপদস্থ ও সৎ আধিকারিক হিসেবেই গণ্য করা হয়।