দিল্লিতে মমতার সঙ্গে পুলিশের তুমুল কথা কাটাকাটি! বঙ্গভবনের বাইরে কেন বিশাল বাহিনী? মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ

রাজধানী দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করার পর, এবার পাল্টা মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রীর তোলা “হয়রানি” ও “নজরদারি”-র অভিযোগ সরাসরি খণ্ডন করে পুলিশের দাবি, এই নিরাপত্তা বলয় ছিল খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরক্ষার জন্যই।
ঠিক কী ঘটেছিল? নির্বাচনী তালিকা সংশোধন বা SIR (Special Interim Revision) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারকে নিয়ে দিল্লিতে এসেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সোমবার সকালে বঙ্গভবন থেকে বেরোনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী দেখেন, ভবনের বাইরে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এতেই মেজাজ হারান তিনি। সরাসরি পুলিশ কর্মীদের সামনে গিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, কেন এই সাধারণ পরিবারগুলোকে ভয় দেখানো হচ্ছে? কেন গরিব মানুষের ওপর নজরদারি চলছে?
ক্ষুব্ধ মমতা সাংবাদিকদের বলেন, “দিল্লিতে যখন বোমা বিস্ফোরণ হয়, তখন পুলিশ কোথায় থাকে? আমি এখানে আন্দোলনে আসিনি। এখানে বাংলার মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এটা আসলে উপরতলার নির্দেশে চলা জমিদারি প্রথা।”
দিল্লি পুলিশের সাফাই মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল কমিশনার (পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট) দেবেশ চন্দ্র শ্রীবাস্তব জানান, পুলিশের কোনো কর্মী বঙ্গভবনের ভেতরে প্রবেশ করেননি। তিনি স্পষ্ট বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া ব্যক্তি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশই আমাদের তাঁর দিল্লি সফর সম্পর্কে আগে জানিয়েছিল। সেই নিয়ম মেনেই বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। আমরা কাউকে ভেতরে ঢুকতে বা বেরোতে বাধা দিইনি।”
শুভেন্দুর হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক সংঘাত এদিকে দিল্লির এই উত্তাপের রেশ পৌঁছেছে কলকাতাতেও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতার এই আচরণের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশকে অযথা আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক ফায়দা তুলছেন। এই মর্মে তিনি রাজ্যপালের কাছেও নালিশ জানিয়েছেন।
বর্তমানে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চালাচ্ছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কেন্দ্র এই প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করছে। দিল্লি পুলিশের দাবি এবং মমতার পাল্টা অভিযোগ— সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির রাজনৈতিক আঙিনা এখন সরগরম।