বাজেটের অঙ্কের মাঝেও নজর কাড়ল নির্মলার ‘কাঞ্জিভরম’! জানুন অর্থমন্ত্রীর বিশেষ শাড়ির সিক্রেট

২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের দিন সংসদে পা রাখতেই সকলের নজর কেড়ে নিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁর পরনে ছিল ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মেরুন ঘেঁষা পার্পেল রঙের একটি রাজকীয় কাঞ্জিভরম সিল্ক শাড়িতে এদিন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু এই শাড়ি কেবল একটি পোশাক নয়, এর বুনন এবং রঙের পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ইতিহাস ও শৈল্পিক কারুকার্য।
কাঞ্জিভরমের বিশেষত্ব ও ‘কোরভাই’ পদ্ধতি নির্মলা সীতারমণের এই শাড়ির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো এর বুনন পদ্ধতি, যাকে বলা হয় ‘কোরভাই’। সাধারণ শাড়িতে পাড় এবং জমি একসাথেই বোনা হয়, কিন্তু কাঞ্জিভরমের ক্ষেত্রে পাড় এবং শাড়ি আলাদাভাবে বোনা হয়। এরপর দুটি অংশকে এমন নিপুণভাবে জুড়ে দেওয়া হয় যে, শাড়ি ছিঁড়ে গেলেও পাড় কখনও আলাদা হয় না। এই শাড়িটি তৈরি হয়েছে অত্যন্ত উন্নতমানের মালবেরি সিল্ক এবং খাঁটি জরির সুতো দিয়ে।
তামিল ঐতিহ্যের ‘কাট্টাম’ এদিন অর্থমন্ত্রীর শাড়ির জমিতে ছিল হালকা সোনালি ও বাদামি রঙের ছোট ছোট চেক বা ঘর কাটা নকশা। তামিল ভাষায় একে বলা হয় ‘কাট্টাম’। প্রায় ১৪০০ বছর আগে পল্লব রাজাদের আমলে এই ধরনের শাড়ির প্রচলন শুরু হয়েছিল। সাধারণত কাঞ্জিভরম শাড়ির পাড়ে মন্দিরের চূড়ার মতো ‘টেম্পল ডিজাইন’ থাকে, তবে নির্মলার শাড়িতে এবার ছিল ভারী জরির ভরাট কাজ।
পোশাকের আড়ালে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা ২০১৯ সাল থেকেই নির্মলা সীতারমণ বাজেট পেশের দিন ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের হাতে বোনা শাড়ি পরে আসছেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবল ফ্যাশন নয়, বরং ভারতের কুটির শিল্প ও স্থানীয় কারিগরদের প্রতি তাঁর সমর্থনের এক বলিষ্ঠ বার্তা। প্রতিবারই তাঁর শাড়িতে দেশের মাটির গন্ধ আর ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটে। হাতে লাল রঙের ডিজিটাল ‘বহিখাতা’ এবং কাঁধে মানানসই শাল নিয়ে এদিন সংসদে প্রবেশ করার সময় তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো।