আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে প্রচুর মৃত্যু, ‘Wow Momo’-র দুই কর্মী হলেন গ্রেফতার

আনন্দপুরের নজিরাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে বড়সড় মোড়। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন জনপ্রিয় খাদ্য বিপণী সংস্থা ‘ওয়াও মোমো’র (Wow! Momo) দুই উচ্চপদস্থ কর্মী। ধৃতদের মধ্যে একজন ওই সংস্থার ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী এবং অন্যজন ম্যানেজার মনোরঞ্জন শট। এই নিয়ে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড মামলায় মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়াল ৩। এর আগে গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত দুই ম্যানেজারকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় লালবাজার। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাঁদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল এবং সুরক্ষাবিধিতে কোনও বড়সড় গলদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘিঞ্জি এলাকায় গুদাম চললেও সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না।

মৃত্যুমিছিল ও ডিএনএ ম্যাপিং: ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে উদ্ধার হওয়া ২১টি দেহাংশ চেনার উপায় নেই। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে ২৮ জনের নাম। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি কার, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ডিএনএ (DNA) ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দেহ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত মৃতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, একটি গুদামে আগুন লাগার পর তা দ্রুত পাশের ‘ওয়াও মোমো’র গুদামে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিতরে থাকা কর্মীরা বেরোনোর সুযোগ পাননি।

ক্ষতিপূরণ ও রাজনৈতিক উত্তাপ: পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ওয়াও মোমো’ কর্তৃপক্ষ মৃত দুই স্থায়ী কর্মী এবং একজন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তা রক্ষীর পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও আজীবন মাসিক বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার দায় সরাসরি রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়েছেন। শুক্রবার ঢালাই ব্রিজে বড়সড় জমায়েতের ডাক দিয়েছেন তিনি। আমরি বা স্টিফেন কোর্টের স্মৃতি উসকে দেওয়া এই ঘটনা এখন খাস কলকাতার বুকে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।