নিশ্চিত আয়ের গ্যারান্টি! ৬০ পেরোলেই প্রতি মাসে মিলবে ৫০০০ টাকা, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে খুশির হাওয়া

অসংগঠিত ক্ষেত্রের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বার্ধক্যকালে যাতে কাউকে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়, সেই লক্ষ্যে ‘অটল পেনশন যোজনা’র (Atal Pension Yojana) মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এই সরকারি প্রকল্পের আওতায় নিজেদের নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন।
কী এই অটল পেনশন যোজনা? এটি একটি সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, যেখানে বিনিয়োগ করলে ৬০ বছর বয়সের পর থেকে আমৃত্যু নিশ্চিত মাসিক পেনশনের সুবিধা পাওয়া যায়। গ্রাহকের বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া সম্ভব। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—গ্রাহকের মৃত্যুর পর তাঁর জীবনসঙ্গী (স্বামী বা স্ত্রী) সমপরিমাণ পেনশন পাবেন এবং উভয়ের মৃত্যুর পর জমানো পুরো টাকা নমিনিকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়।
আবেদনের যোগ্যতা ও নিয়ম: ১. বয়সসীমা: ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী যেকোনো ভারতীয় নাগরিক এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন। ২. সময়সীমা: পেনশন পেতে হলে অন্তত ২০ বছর নিয়মিত কিস্তি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ৩. প্রয়োজনীয় নথি: আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ৪. কারা অযোগ্য: যারা আয়কর (Income Tax) প্রদান করেন, তাঁরা ২০২২ সালের ১ অক্টোবর থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।
NPS বনাম অটল পেনশন যোজনা: ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) মূলত সরকারি ও কর্পোরেট কর্মীদের জন্য হলেও, অটল পেনশন যোজনা বিশেষভাবে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্বল্প আয়ের মানুষের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। এখানে নিশ্চিত আয়ের গ্যারান্টি সরকারিভাবে দেওয়া হয়।
আবেদনের সহজ উপায়: অনলাইনে এনপিএস ট্রাস্টের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি আবেদন করা যাবে। এছাড়া অফলাইনে আপনার নিকটস্থ যেকোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে গিয়ে আধার কার্ডের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করা সম্ভব।
আগামী দিনে এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে আরও কয়েক কোটি ভারতীয় পরিবার আর্থিক নিরাপত্তার ছাতার তলায় আসবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।