সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শেষমেশ তালিকা প্রকাশ কমিশনের, ‘DM’ ও ‘UM’ আতঙ্কে ঘুম উড়েছে ভোটারদের!

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ‘সন্দেহজনক ভোটারদের’ তালিকা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর শেষ পর্যন্ত ২৫ জানুয়ারি, রবিবার এই তালিকা প্রকাশ করল কমিশন। তবে তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া এবং সেখানে ব্যবহৃত বিশেষ কোড ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি।

আদালতের লড়াই ও কমিশনের গড়িমসি সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা জনসমক্ষে আনার দাবি নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই তালিকা প্রকাশ করতেই হবে। যদিও নির্বাচন কমিশন নিজেদের দেওয়া ডেডলাইন মিস করে শেষ মুহূর্তে রবিবার এই তালিকা প্রকাশ করে। আর এই বিলম্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।

মাঝরাতে তালিকা প্রকাশ: চরম হয়রানি অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের একাধিক জেলায় তালিকা প্রকাশের নামে প্রহসন হয়েছে। কোথাও কোথাও সন্ধ্যার পর, এমনকি অনেক গভীর রাতেও তালিকা টাঙানো হয়েছে। অনেক জায়গায় তালিকা দেখার মতো উপযুক্ত জায়গা না থাকায় ভোটারদের চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে হিয়ারিং বা শুনানির প্রক্রিয়া নিয়েও অভিযোগের পাহাড় জমছে। ভোটারদের দাবি, পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই এই তালিকা সামনে আনা হয়েছে।

আতঙ্কের নাম ‘DM’ ও ‘UM’ তালিকা প্রকাশের পর সাধারণ ভোটারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে দুটি শব্দ— ‘DM’ এবং ‘UM’। কমিশন এই দুই ক্যাটাগরিতেই সন্দেহজনক ভোটারদের শ্রেণিবিভাগ করেছে।

DM-এর রহস্য: এর অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম ম্যাপ করা হয়েছে, কিন্তু কমিশনের অত্যাধুনিক AI প্রযুক্তি ওই ভোটারকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

UM-এর অর্থ: এর মানে হলো সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ম্যাপ করা সম্ভব হয়নি, অর্থাৎ তাঁদের হদিস মেলেনি।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন বড় প্রশ্ন—কারা বেশি বিপদে? কার নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে চলেছে? এই ধোঁয়াশা কাটাতে হন্যে হয়ে একে ওকে জিজ্ঞাসা করছেন ভোটাররা। কমিশনের এই ডিজিটাল শ্রেণিবিভাগ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির বদলে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। ভোটারদের একটি বড় অংশের আশঙ্কা, এই টেকনিক্যাল শব্দের আড়ালে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো কৌশল লুকিয়ে নেই তো?