‘দরকারে গাঁটের কড়ি খরচ করুন, কিন্তু ওয়ার রুম চাই-ই!’ মেগা বৈঠকে সাংসদ-বিধায়কদের চরম আল্টিমেটাম অভিষেকের

এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সুর চড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার ১ লক্ষেরও বেশি দলীয় কর্মীকে নিয়ে করা মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন— এই লড়াইয়ে তিনি ‘বিনা যুদ্ধে সূচাগ্র মেদিনী’ ছাড়তে নারাজ। আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলে আগামী ২২ দিন কর্মীদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, দলের সাংসদ ও বিধায়কদের প্রতি তাঁর কড়া বার্তা, “সিরিয়াসলি কাজ না করলে দল রাখবে না।”
গাঁটের কড়ি খরচের নির্দেশ: সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে অভিষেক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। দলের বিধায়ক ও সাংসদদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “দরকারে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ওয়ার রুম চালান। অন্যান্য দলের মতো আমরা আপনাদের বেতন থেকে টাকা কাটি না। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।” তিনি সাফ জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি এলাকায় ওয়ার রুম কার্যকর করতে হবে, নচেৎ বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ ধরা সম্ভব হবে না।
১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ: অভিষেক তাঁর বক্তব্যে একটি চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা গরমিলের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ভোটারদের নাম আগের তালিকায় ছিল। কোনোভাবেই যেন এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথে ‘ভোটরক্ষা কমিটি’ গড়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পথে নামছে তৃণমূল: শুধু ভার্চুয়াল বৈঠক নয়, ভোটার দিবসে রাজপথ দখলেরও ডাক দিয়েছেন অভিষেক। প্রতিটি ব্লকে অন্তত দুটি করে মিছিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএলএ-২ (BLA-2) কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখতে হবে। অভিষেকের এই ‘ভোকাল টনিক’ আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াইকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।