গণতন্ত্রের পক্ষে বড় বিপদ!’ তাড়াহুড়ো করে SIR নিয়ে এবার তোপ দাগলেন অমর্ত্য সেন

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন তুললেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যেভাবে ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ করে এই কাজ করা হচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিপন্ন হতে পারে। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

নিজের অভিজ্ঞতায় তিক্ততা: শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’-র ঠিকানায় অমর্ত্য সেনকেও শুনানির নোটিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁর ফরমে মায়ের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান কম থাকা নিয়ে ‘যৌক্তিক অসামঞ্জস্য’ (Logical Discrepancy) পাওয়া গিয়েছিল। এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, “শান্তিনিকেতনে যেখানে আমি আগে ভোট দিয়েছি, সেখানে আমার নাম-ঠিকানা সব নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও আমার মৃত মায়ের বয়স নিয়ে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গ্রামীণ ভারতে আমার মতো অনেকেরই জন্ম শংসাপত্র নেই। আমার না হয় বন্ধুরা ছিল সাহায্য করার জন্য, কিন্তু যাদের কেউ নেই তাঁদের কী হবে?”

গণতন্ত্রের প্রতি অবিচার: অমর্ত্য সেন স্পষ্ট জানান, তিনি ভোটার তালিকা পর্যালোচনার বিরোধী নন। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় না নিয়ে এই কাজ করা ভোটারদের প্রতি এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতি অন্যায্য। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টকে নিশ্চিত করতে হবে যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক যেন ভোট দিতে গিয়ে অসুবিধার সম্মুখীন না হন।” সেনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের নথিপত্র পেশ করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্ক: এই প্রক্রিয়ায় কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দল সুবিধা পাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নই। তবে অনেকেই বলছেন বিজেপি এই আন্ডার-অ্যাকাউন্টিং থেকে লাভবান হবে। কে লাভবান হলো সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো নির্বাচন কমিশনের কোনো ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা আমাদের গণতন্ত্রকে ভুল পথে চালিত না করে।” নোবেলজয়ীর এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।