লিভ-ইনে সন্তান হলে মিলবে স্ত্রীর মর্যাদা! বম্বে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে তোলপাড় দেশ

লিভ-ইন রিলেশনশিপ বা সহবাস নিয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ দিল বম্বে হাইকোর্ট। আধুনিক সমাজে লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি বৈধতা এবং এই সম্পর্কের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালত যে মন্তব্য করেছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনজ্ঞ মহল। হাইকোর্টের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ—যদি দীর্ঘস্থায়ী সহবাসের জেরে কোনো সন্তান জন্ম নেয়, তবে সেই সম্পর্ককে ‘বিয়ের মতো বন্ধন’ (Relationship in the nature of marriage) হিসেবে গণ্য করা উচিত।

মামলার প্রেক্ষাপট: ঘটনার সূত্রপাত এক যুবতীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ওই যুবতী এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন সহবাস করেছিলেন। অভিযোগ, প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ওই ব্যক্তির চাপে তিনি গর্ভপাত করান। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁরা ফের সহবাস শুরু করেন এবং ওই যুবতী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। যুবতীর দাবি, সন্তানের জন্মের পরেই ভোল বদলে ফেলেন ওই ব্যক্তি। তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন এবং ২০২২ সালে অন্য এক মহিলাকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। প্রতারিত যুবতী এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন এবং ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আদালতের রায়: নিম্ন আদালত ওই যুবতী ও তাঁর কন্যাসন্তানের ভরণপোষণের জন্য ওই ব্যক্তিকে নিয়মিত টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, যেহেতু তাঁদের আইনি বিয়ে হয়নি, তাই তিনি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিতে বাধ্য নন। কিন্তু বিচারপতি এই আবেদন খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, পারিবারিক হিংসা আইনের আওতায় মহিলারা সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। যেহেতু তাঁরা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মতো একত্রে বাস করেছেন এবং তাঁদের সন্তান রয়েছে, তাই ওই মহিলা স্ত্রীর মতোই আইনি মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রসঙ্গ: উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই মাদ্রাজ হাইকোর্টও লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে একইরকম সুর চড়িয়েছিল। আদালত বলেছিল, লিভ-ইন সম্পর্ককে প্রাচীন ‘গন্ধর্ব বিবাহ’-এর মতো স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন। যেখানে বর-কনের পারস্পরিক সম্মতিই শেষ কথা। বম্বে হাইকোর্টের এই নয়া পর্যবেক্ষণ সেই দাবিতেই আরও সিলমোহর দিল। আদালত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, বিয়ের কাগজ না থাকলেও দীর্ঘদিনের সহবাস এবং সন্তানের দায়িত্ব থেকে কোনো পুরুষ মুক্তি পেতে পারেন না।

Editor001
  • Editor001