রাম মন্দিরে বড় রদবদল! প্রথম চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার পদে কে বসছেন? চর্চায় ৫,৫৮৫ জনের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩ নাম!

অযোধ্যার রাম মন্দিরে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার পর এবার মন্দিরের প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পেশাদার রূপ দিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার রাম মন্দির পেতে চলেছে তার ইতিহাসের প্রথম প্রধান কার্যপালক আধিকারিক বা সিইও (CEO)। সিইও পদের জন্য গঠিত বিশেষ অনুসন্ধান ও চয়ন কমিটি সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইতিমধ্যেই ৩ জনের একটি শর্টলিস্ট করা প্যানেল ট্রাস্টের হাতে সঁপে দিয়েছে। আজ লখনউয়ে ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই তিনজনের মধ্যে থেকে যেকোনো একজনের নামে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার কথা রয়েছে।

চূড়ান্ত এই প্যানেলে প্রাক্তন আইএএস (IAS) যোগेश्वर রাম মিশ্র ছাড়াও প্রাক্তন আইপিএস (IPS) রাজেশ পান্ডে এবং সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে রাম মন্দিরের প্রথম প্রশাসনিক প্রধানের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়ে গেছে জল্পনা।

৫,৫৮৫ জন আবেদনকারীর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেরা ৩ জনকে

রাম মন্দিরে অনুদান বা চন্দা চুরির অনভিপ্রেত ঘটনার পরই রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট মন্দিরের অভ্যন্তরীণ कामकाज ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিইও পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৫,৫৮৫ জন যোগ্য প্রার্থী আবেদন জানান। প্রাথমিক স্ক্রুটিনির পর গুগল ফর্মের মাধ্যমে ৩,৫৭৭ জন প্রার্থী তাদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা জমা দেন। এরপর ৬০0 নম্বরের কঠোর মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে শর্টলিস্ট করে ৪৭০ বা তার বেশি নম্বর পাওয়া ১০৮ জন প্রার্থীকে নিয়ে ভার্চুয়াল ইন্টারভিউ নেওয়া হয়।

চার দিনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৭ জন প্রার্থীকে সরাসরি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয় এবং অবশেষে তাদের মধ্য থেকেই ৩ জনের এই বিশেষ প্যানেলটি প্রস্তুত করা হয়।

রেসের একেবারে সামনের সারিতে যোগেশ্বর রাম মিশ্র

এই তিন হাই-প্রোফাইল নামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে প্রাক্তন আইএএস অফিসার যোগেশ্বর রাম মিশ্রকে নিয়ে। ২০০৫ ব্যাচের উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই আমলা এর আগে পিসিএস (PCS) অফিসার হিসেবেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে বারাণসী থেকে শুরু করে অযোধ্যা—দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরগুলিতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটকদের সমাগম সামলানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। জনবহুল তীর্থক্ষেত্রে ভিড় ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তিনি অত্যন্ত দক্ষ হিসেবে পরিচিত। অতীতে বারাবাঁকির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মির্জাপুর মণ্ডলের কমিশনারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিন্দ্যাচল করিডোর প্রকল্পের মতো ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের অভিজ্ঞতা তাঁর নামটিকে এই পদের জন্য সবচেয়ে জোরালো করে তুলেছে।

আইপিএস রাজেশ পান্ডের শক্তপোক্ত প্রোফাইল

সিইও পদের লড়াইয়ে সমানভাবে আলোচিত হচ্ছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ পান্ডের নাম। ১৯৮৬ সালে ইউপিপিএসসি (UPPSC)-র মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৯ সালে ডিএসপি হিসেবে কেরিয়ার শুরু করা পান্ডে ২০০৩ ব্যাচের আইপিএস অফিসার হন। প্রায় ৩২ বছরের দীর্ঘ পুলিশি সেবায় তিনি লখনউ, আলিগড় ও মিরাটের মতো সংবেদনশীল জেলায় এসএসপি এবং এসটিএফ (STF) ও এটিএস (ATS)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাম মন্দিরের মতো অতি-সংবেদনশীল ও উচ্চ নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা ধর্মীয় পরিসরে নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল দক্ষতার দিক থেকে তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃতীয় নামটি কার?

এই দুই হেভিওয়েট প্রশাসনিক ও পুলিশি মুখের পাশাপাশি প্যানেলে থাকা তৃতীয় নামটিকে ঘিরেও রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সূত্রের খবর, তৃতীয় নামটি এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকের। সেনাবাহিনীর ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার সুবাদে শৃঙ্খলা রক্ষা, বৃহৎ পরিসরে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ট্রাস্টের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে চন্দা চুরির ঘটনায় কিছুটা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পর ট্রাস্টের স্বচ্ছতা ও কঠোর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই সেনা অফিসারের নাম নিয়েও জোর চর্চা চলছে।

অযোধ্যার এই भव्य রাম মন্দিরের নির্মাণকাজ এখন শেষপর্যায়ের দিকে, তবে আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম এবং পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য একটি পোক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত রূপ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আজকের এই ঐতিহাসিক বৈঠকে কার হাতে মন্দিরের প্রথম সিইও-র দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *