পেট্রোলে এথেনলের মিশ্রণে কি কমছে মাইলেজ? হিরো মোটোকর্পের বড় মন্তব্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন বাইক চালকরা!

পেট্রোলে এথেনলের মিশ্রণ বা ব্লেন্ডিং নিয়ে দেশজুড়ে বর্তমানে তীব্র আলোচনা চলছে। বহু গাড়ি মালিকেরই অভিযোগ যে, পেট্রোলে এথেনলের মাত্রা বৃদ্ধির পর থেকে তাঁদের যানবাহনের মাইলেজ বা জ্বালানি দক্ষতা অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে পুরোনো দু-চাকার গাড়ির মালিকরা মাইলেজ কমে যাওয়া এবং ইঞ্জিন সংক্রান্ত নানা ছোটোখাটো সমস্যার কথা বারবার তুলে ধরেছেন। যদিও গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনেই এথেনল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

এই আবহে দেশের অন্যতম বৃহত্তম দু-চাকার গাড়ি নির্মাতা সংস্থা ‘হিরো মোটোকর্প’ এথেনল এবং বাইকের মাইলেজ নিয়ে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সংস্থার মতে, আগামী দিনে এথেনলের মতো বিকল্প জ্বালানির কারণে দু-চাকার গাড়ির মাইলেজে খুব একটা বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, অটোমোবাইল সংস্থাগুলি ক্রমাগত তাদের উৎপাদিত গাড়িগুলির ফুয়েল এফিশিয়েন্সি বা জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে চলেছে।

এথেনল ব্লেন্ডিংকে সমর্থন হিরোর

হিরো মোটোকর্পের চিফ বিজনেস অফিসার-ইন্ডিয়া আশুতোষ ভার্মা সরকারের এথেনল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রামকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশের জ্বালানি খাতের ওপর বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত দূরদর্শী ও সঠিক পদক্ষেপ। ভার্মার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পেট্রোলের তুলনায় এথেনলের ক্যালোরিফিক ভ্যালু অর্থাৎ শক্তি উৎপন্ন করার ক্ষমতা কিছুটা কম। সেই কারণে এথেনলের মাত্রা বাড়লে তাত্ত্বিকভাবে মাইলেজে সামান্য তারতম্য হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি তাদের প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ ও ফুয়েল এফিশিয়েন্সি উন্নত করে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারে পালটে যাচ্ছে ছবি

আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানের দু-চাকার গাড়িগুলিতে এমন বহু অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে যা জ্বালানি সাশ্রয় করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘আইডল স্টপ-স্টার্ট সিস্টেম’ (Idle Stop-Start System)। ট্রাফিকের মধ্যে বাইক বা স্কুটার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেই ইঞ্জিন নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্লাচ বা এক্সিলারেটর ঘোরালেই গাড়ি ফের চালু হয়ে যায়। এর ফলে রাস্তায় অপ্রয়োজনে জ্বালানি অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, সংস্থাগুলি এখন ‘লো-রোলিং রেজিস্ট্যান্স টায়ার’-এর ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই ধরনের টায়ার রাস্তায় চলার সময় কম বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে গাড়ি চালাতে কম শক্তি লাগে এবং জ্বালানির সাশ্রয় ঘটে।

ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ ক্রেতার চাহিদা বোঝা

শুধু এথেনল বিতর্কই নয়, দু-চাকার গাড়ি বাজারের অন্যান্য চ্যালেঞ্জ নিয়েও মুখ খুলেছে হিরো মোটোকর্প। কোম্পানির মতে, গত কয়েক বছরে গ্রাহকদের চাহিদার গ্রাফে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে। বিশেষ করে অতিমারী পরবর্তী সময়ে বাজারে এমন কিছু পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যার ফলে আগামী দিনে বিক্রির ধারা কোন দিকে মোড় নেবে, তা আগে থেকে অনুমান করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি দু-চাকার শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে করছে সংস্থা। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভবিষ্যতের পরিবর্তনশীল ক্রেতার পছন্দ ও চাহিদা নিখুঁতভাবে অনুধাবন করাই এখন সমস্ত অটোমোবাইল সংস্থার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চাহিদাকে মাথায় রেখেই সমস্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং নতুন প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে বলে জানিয়েছে হিরো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *