ভারতের কাছে নতিস্বীকার ট্রাম্পের? ভারতীয় পণ্যে চড়া শুল্ক প্রত্যাহারের বড় ইঙ্গিত আমেরিকার

বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনীতির বড় জয়! রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমেরিকা যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল, তা এবার প্রত্যাহার করা হতে পারে। সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমনই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট। ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে ভারতের রফতানি বাণিজ্যে স্বস্তির হাওয়া বইবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন এই শুল্ক প্রত্যাহারের ভাবনা? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনে মস্কোকে যুদ্ধের রসদ জোগাচ্ছে। এর ফলে গত বছরের আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক চাপানো হয়েছিল। তবে স্কট বেসেন্টের দাবি, আমেরিকার এই কড়া পদক্ষেপের পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি একে মার্কিন প্রশাসনের ‘বিরাট সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেসেন্ট বলেন, “রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই এখন এই বাড়তি শুল্ক তুলে নেওয়ার রাস্তা তৈরি হয়েছে।”
৫০০ শতাংশ শুল্কের খাঁড়া: যদিও এক দিকে শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত মিলছে, অন্য দিকে মার্কিন কংগ্রেসের একটি অংশ এখনো কট্টর অবস্থানে অনড়। রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখলে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর একটি বিল নিয়েও আলোচনা চলছে। মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পুতিনের যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর।
ভারতের কড়া অবস্থান: আমেরিকার এই শুল্ক-রাজনীতির মাঝেও নয়াদিল্লি তার ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতিতে অবিচল। মোদি সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৪০ কোটি দেশবাসীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে শক্তির জোগান নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, আমেরিকা কী বিল আনছে বা কী শুল্ক চাপাচ্ছে, তার ওপর সতর্ক নজর রাখছে ভারত। ভারতের এই অনড় মনোভাব এবং বিশ্ববাজারে তেলের চাহিদার সমীকরণই শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনকে নরম হতে বাধ্য করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।