যোগী বনাম শঙ্করাচার্য! অবিমুক্তেশ্বরানন্দকে সরকারের নোটিশ, এবার কি সন্ন্যাসীদেরও ‘কাগজ’ দেখাতে হবে?

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘ মেলাকে কেন্দ্র করে যোগী সরকার এবং স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দের মধ্যে সংঘাত এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে নিজেকে দাবি করা অবিমুক্তেশ্বরানন্দকে নোটিশ পাঠিয়েছে মেলা প্রশাসন। নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন নিজেকে ‘শঙ্করাচার্য’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন? এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—তবে কি এবার হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরুদেরও নিজেদের পদের সপক্ষে সরকারি নথি বা কাগজ দেখাতে হবে?

বিবাদের সূত্রপাত: ঘটনার শুরু মাঘ মেলার ‘শাহি স্নান’ নিয়ে। স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ পালকিতে চেপে সঙ্গমে স্নান করতে চেয়েছিলেন, যা শঙ্করাচার্যদের প্রাচীন ঐতিহ্য। কিন্তু মেলা প্রশাসন তাঁকে বাধা দেয় এবং অনুমতির প্রয়োজন বলে জানায়। এর প্রতিবাদে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ফুটপাথে ধরনায় বসেছেন স্বামীজি। তাঁর অভিযোগ, গো-হত্যা এবং রাম মন্দিরের অসম্পূর্ণ প্রাণপ্রতিষ্ঠা নিয়ে মোদী-যোগী সরকারের সমালোচনা করার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে।

সরকারের কড়া পদক্ষেপ: সোমবার রাতে স্বামীজির শিবিরের বাইরে নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় প্রশাসন। সেখানে ২০২২ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য পদে এখনও কারও আনুষ্ঠানিক অভিষেক হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না দিলে কড়া আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।

রাজনৈতিক তোলপাড়: এই ঘটনায় আসরে নেমেছে বিরোধী দলগুলি। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেন, “অহংকার তো দশানন রাবণেরও টেকেনি। যারা আগে মুসলিমদের কাগজ দেখাতে বলত, আজ তারাই হিন্দু সন্তদের কাগজ চাইছে।” কংগ্রেস নেতা পবন খেড়াও এই ঘটনাকে ‘অহংকারের সীমা’ বলে বর্ণনা করেছেন। হিন্দু সমাজ ও সাধু মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—সরকার কি তবে ধর্মীয় পরম্পরাতেও হস্তক্ষেপ শুরু করল?