ডিগ্রি আছে, দিশা নেই! জাতীয় যুব দিবসের আগে শিক্ষিত বেকারত্বের গ্রাফে শিউরে উঠছে দেশ

হাতে ঝকঝকে ডিগ্রি, চোখে একরাশ স্বপ্ন, কিন্তু পকেটে নেই নিয়োগপত্র। আরও একটি জাতীয় যুব দিবসের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে ভারতের যুব সমাজের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। দেশের এক বিশাল অংশ আজ অতিশিক্ষিত হয়েও ন্যূনতম চাহিদাপূরণে ব্যর্থ। সম্প্রতি সংসদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক দাবি করেছে যে, দেশে বেকারত্বের হার ২০১৯-২০ সালের ৪.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩-২৪ সালে ৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই পরিসংখ্যান কি আদেও বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন?

খাতা-কলমে বেকারত্ব কমলেও প্রশ্ন উঠছে আয়ের গুণমান নিয়ে। এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে মাসে মাত্র ২৫ হাজার টাকা বেতন পেলেই একজন ভারতীয় দেশের প্রথম ১০ শতাংশ ধনী জনগণের তালিকায় ঢুকে পড়ছেন। বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে এই টাকায় সংসার চালানো যেখানে দায়, সেখানে সরকারি নথিতে তিনি ‘প্রথম শ্রেণির নাগরিক’। আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠনের (ILO) রিপোর্ট আরও ভয়ংকর। ২০০০ সালে ভারতে শিক্ষিত বেকার যেখানে ছিল ৩৫ শতাংশ, ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে। অর্থাৎ, যত বেশি পড়াশোনা করছেন যুবকরা, চাকরি পাওয়ার সুযোগ ততটাই সঙ্কুচিত হচ্ছে। এক ক্ষয়ে যাওয়া সমাজ আর অনিশ্চিত কর্মবাজারের চাপে ‘যন্ত্র’ হয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে পিষ্ট ভারতের আগামীর কারিগররা।