পাসপোর্টে থাকছে জাদুকরী চিপ! বিদেশ ভ্রমণ হবে আরও সহজ, এক ক্লিকেই জানুন আবেদনের খুঁটিনাটি

বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিচয় জালিয়াতি এবং জাল পাসপোর্ট রুখতে ভারত সরকার এবার নিয়ে এসেছে অত্যাধুনিক ‘ই-পাসপোর্ট’ (e-Passport)। সাধারণ পাসপোর্টের মতো দেখতে হলেও এর কভারের ভেতরে লুকানো আছে একটি ইউনিক ইলেকট্রনিক চিপ, যা আপনার বিদেশ ভ্রমণকে করবে আরও নিরাপদ এবং দ্রুত।

ই-পাসপোর্ট কেন বিশেষ? এই পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক চিপে পাসপোর্টধারীর নাম, জন্ম তারিখ, ছবি এবং বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এটি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে অবিশ্বাস্যভাবে দ্রুত করে তোলে। ই-গেট এবং স্বয়ংক্রিয় ক্লিয়ারেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা না করেই সহজে যাতায়াত করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় কথা, এই চিপের তথ্য হ্যাক করা বা কপি করা কার্যত অসম্ভব।

আবেদন করবেন কীভাবে? ই-পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণ পাসপোর্টের মতোই সহজ।

প্রথমে পাসপোর্ট সেবা ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

আবেদনপত্র পূরণ করে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে।

নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে গিয়ে নথি জমা ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হবে।

পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হলেই আপনার হাতে পৌঁছে যাবে হাই-টেক ই-পাসপোর্ট।

খরচ কত? সবথেকে খুশির খবর হলো, এই উন্নত প্রযুক্তির জন্য সরকার অতিরিক্ত কোনো টাকা নিচ্ছে না। নিয়মিত পাসপোর্টের যা ফি, ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও তাই রাখা হয়েছে:

সাধারণ পরিষেবা: ৩৬ পৃষ্ঠার জন্য ১,৫০০ টাকা এবং ৬০ পৃষ্ঠার জন্য ২,০০০ টাকা।

তৎকাল পরিষেবা: ৩৬ পৃষ্ঠার জন্য ৩,৫০০ টাকা এবং ৬০ পৃষ্ঠার জন্য ৪,০০০ টাকা।

বর্তমানে ভারতের নির্বাচিত কিছু শহরে এই পরিষেবা শুরু হলেও খুব দ্রুত এটি দেশব্যাপী চালু হতে চলেছে। এর ফলে ভারত এখন বিশ্বের সেই উন্নত দেশগুলির তালিকায় নাম লেখাল যারা সর্বাধুনিক এবং নিরাপদ ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করে।