মার্চে ছিল বিয়ে, জানুয়ারিতে ফিরল লাশ! নেপালে ডাক্তারিতে ইন্টার্নশিপ করার সময় মর্মান্তিক মৃত্যু নয়ডার যুবকের

বিয়ের বাদ্যি বাজার কথা ছিল আর মাত্র দু’মাস পর। বাড়িতে চলছিল আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে নয়ডার নয়াবন গ্রামের সেই বাড়িতে এখন কেবলই কান্নার রোল। নেপালে ডাক্তারি পড়তে যাওয়া এক প্রতিশ্রুতিশীল যুবক, প্রিন্স, এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন। যে ছেলেকে ডাক্তার হিসেবে দেখার স্বপ্ন দেখেছিল পরিবার, এখন তার নিথর দেহ কাঁধে তুলে নিতে হচ্ছে বৃদ্ধ বাবাকে।
নয়াবন গ্রামের বাসিন্দা প্রিন্স নেপালে এমবিবিএস শেষ করে একটি হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করছিলেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর ছেলেকে সুশিক্ষিত করেছিলেন বাবা নেপালাল আওয়ানা। পরিবার আশা করেছিল, ছেলে গ্রেটার নয়ডায় ফিরে এসে অভাবের সংসার সামলাবে। কিন্তু নেপালে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় পিছন থেকে একটি অজ্ঞাত পরিচয় গাড়ি তাঁকে ধাক্কা দিলে সব শেষ হয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
১০ মার্চ প্রিন্সের বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছিল। গয়না আর পোশাক কেনাকাটা প্রায় শেষ। কিন্তু বিয়ের কার্ড ছাপানোর আগেই গ্রামে পৌঁছল তাঁর শববাহী যান। মা বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন, আর বাবা হাহাকার করে বলছেন, “ছেলের বিয়েতে যাওয়ার কথা ছিল, অথচ আজ নিজের হাতে ওর চিতায় আগুন দিতে হচ্ছে।” প্রিন্সের এই অকাল মৃত্যুতে শুধু নয়াবন গ্রাম নয়, সংলগ্ন গোটা এলাকা শোকে স্তব্ধ। এক পরিশ্রমী ও মেধাবী ছাত্রের এমন পরিণতিতে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।