ভারতে প্রতি ৮ মিনিটে ১ জন নারীর মৃত্যু! জরায়ুমুখ ক্যান্সার রুখতে ঠিক কোন বয়সে নিতে হবে টিকা?

ভারতে মহিলাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে জরায়ুমুখ ক্যান্সার বা সার্ভিকাল ক্যান্সার। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)-এর পরিসংখ্যান রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো; দেশে প্রতি ৮ মিনিটে একজন মহিলা এই মারণ রোগের কারণে প্রাণ হারান। এই ক্যান্সার অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোনো লক্ষণ স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। অনিয়মিত জীবনধারা এবং সচেতনতার অভাবে ভারতে এই রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।

আরএমএল হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ডাঃ সালোনি চাড্ডা জানিয়েছেন, এই মারণ রোগ প্রতিরোধের সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র হলো এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন। ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে এই টিকা দেওয়া সবথেকে কার্যকর, কারণ এই বয়সে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে। ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়স পর্যন্তও এই টিকা নেওয়া যায়, তবে ২৬ বছরের পর টিকা নিতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। এই টিকার মূল লক্ষ্য হলো হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV)-এর হাত থেকে সুরক্ষা প্রদান করা, যা এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ।

কেন বাড়ছে এই রোগের ঝুঁকি? জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো এইচপিভি সংক্রমণ। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ, বারবার গর্ভধারণ, ধূমপান এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অস্বাভাবিক রক্তপাত, যৌন মিলনের সময় ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব এবং তলপেটে ক্রমাগত ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক সময়ে টিকাকরণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যান্সারের কারণে হওয়া মৃত্যু অনেকাংশেই ঠেকানো সম্ভব। আপনার পরিবারের কন্যা সন্তানদের সুরক্ষায় সঠিক সময়ে ভ্যাকসিনের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করবেন না।