কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা কি আইপ্যাক-এর মাধ্যমে? মমতার বাধার মুখে বিস্ফোরক দাবি ইডির

আইপ্যাক (I-PAC) অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই পাল্টা প্রেস রিলিজ জারি করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, এই তল্লাশি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং কয়লা পাচার কাণ্ডের শিকড় সন্ধানেই এই অভিযান। বৃহস্পতিবার কলকাতা ও দিল্লির মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি, যার মধ্যে কলকাতার আইপ্যাক দফতর অন্যতম।

ইডির বিস্ফোরক দাবি, কয়লা মাফিয়া অনুপ মাঝির সিন্ডিকেট থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ায় আইপ্যাক ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের নাম জড়িয়েছে। ইডি সূত্রের খবর, চুরির কয়লা বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বর্ধমানের বিভিন্ন সংস্থায় বিক্রির ক্ষেত্রে আইপ্যাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিল বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে ‘শাকম্ভরী গ্রুপ’-এর সঙ্গে কয়লা কেনাবেচায় প্রতীক জৈনের যোগসূত্র নিয়ে অভিযুক্তদের বয়ানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

উল্লেখ্য, তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাক অফিসে গিয়ে ইডির কাজে বাধা দেন এবং ফাইলপত্র ও হার্ডডিস্ক সরিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইডির দাবি, আইন মেনেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। ধৃত অভিযুক্তদের বয়ান এবং লেনদেনের ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখতেই প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে এই হানা। আইপ্যাকের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচারের আড়ালে কালো টাকা সাদা করার কোনো চক্র কাজ করছিল কি না, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।