বাবা নিজের কিডনি দিয়েও বাঁচাতে পারলেন না ছেলেকে! হাসপাতালের ৬ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী যুবক!

রাজস্থানের টঙ্কে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে চোখের জল ধরে রাখা দায়। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাবা ছেলেকে নতুন জীবন দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই ছেলেই মাত্র কয়েক মাসের মাথায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। জয়পুরের এসএমএস (SMS) হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লকের ষষ্ঠ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারালেন ৩৬ বছর বয়সী হংসরাজ জাট। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালেই জ্ঞান হারান বৃদ্ধ বাবা গোগারাম।
বাবার জীবনদানও ব্যর্থ হলো হংসরাজ গত সাত দিন ধরে হাসপাতালের ট্রান্সপ্ল্যান্ট ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। দাতা ছিলেন স্বয়ং তাঁর বাবা গোগারাম। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলে অভাবের সংসার আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু নিয়তি ছিল অন্যরকম। গত রাতে গোগারাম যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, তখনই ওয়ার্ডের জানলা দিয়ে ৭০ ফুট নিচে ঝাঁপ দেন হংসরাজ।
যন্ত্রণার কাছে হার মানল জীবন চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং শারীরিক যন্ত্রণায় হংসরাজ মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের সামনে তিনি সবসময় স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করতেন। তাঁর সাত ও তিন বছরের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে। গোগারাম ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, “আমি নিজের কিডনি দিয়েও ওকে ধরে রাখতে পারলাম না। ঈশ্বর হয়তো এটাই চেয়েছিলেন।” হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।