পতন হলো মাদুরো সাম্রাজ্যের! ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনার স্থল অভিযান, ট্রাম্পের হাতে তেলের নিয়ন্ত্রণ?

বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা! লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বড়সড় সামরিক হস্তক্ষেপ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি দেশে বিচারের মুখোমুখি। এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আগামী সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী তথা নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর সাথে বিশেষ বৈঠকে বসবেন।

ড্রাগ কার্টেল ধ্বংসে মরিয়া ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রের পর এবার ভেনেজুয়েলার মাটিতে সরাসরি স্থল অভিযান শুরু করবে মার্কিন বাহিনী। মেক্সিকো ও ভেনেজুয়েলার মাদক পাচারকারী চক্র বা ‘কার্টেল’গুলিকে সমূলে বিনাশ করাই এখন ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। ট্রাম্পের কথায়, “আমরা এবার কার্টেলগুলির ডেরায় সরাসরি আক্রমণ করব।” ইতিমধেই মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় ১০০-র বেশি মাদক পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে।

তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউসের রণকৌশল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার এখন আমেরিকার নজরে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামীকালই তিনি আমেরিকার শীর্ষ তেল সংস্থাগুলির কর্মকর্তাদের সাথে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করবেন। ভেনেজুয়েলার তেল মজুত কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে— তা নিয়ে এই বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।

“আমরা দাস নই”: রদ্রিগেজের পালটা হুঙ্কার এদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ আমেরিকার এই নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে নারাজ। ট্রাম্প দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও, রদ্রিগেজ এক অনুষ্ঠানে কড়া ভাষায় বলেন, “আমরা কারোর অধীনস্থ নই, আমরা দাস নই।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, মাদুরোর পতন হলেও ভেনেজুয়েলায় নতুন করে সার্বভৌমত্বের লড়াই শুরু হতে পারে।