বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুন আরও এক হিন্দু, ঘটনায় ছড়ালো চাঞ্চল্য

শান্ত হওয়ার বদলে বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই হিন্দু পুরুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো। ৫ জানুয়ারি (সোমবার) যশোর ও নরসিংদীতে ঘটা এই জোড়া খুনের ঘটনায় ওপার বাংলার সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত ১৮ দিনে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ষষ্ঠ ‘টার্গেট কিলিং’।

ঘটনা ১: সাংবাদিক রানা প্রতাপকে গুলিবর্ষণ ও জবাই সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ যশোর জেলার মণিরামপুরের কোপালিয়া বাজারে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে। নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘বিডি খবর’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তথা ব্যবসায়ী ৪৫ বছর বয়সী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে তাঁর বরফ কারখানা থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনে একদল দুষ্কৃতী। মোটরসাইকেলে আসা আততায়ীরা তাঁকে গলির ভেতর নিয়ে গিয়ে মাথায় পরপর ৩টি গুলি করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কেটে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৭টি খালি কার্তুজ উদ্ধার করেছে।

ঘটনা ২: নরসিংদীতে মুদি দোকানদারকে কুপিয়ে হত্যা যশোরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত ১০টা নাগাদ নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে আক্রান্ত হন মণি চক্রবর্তী (৪০)। নিজের মুদি দোকানে থাকাকালীন একদল ধর্মান্ধ মৌলবাদী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে।

১৮ দিনে ৬টি বড় খুনের খতিয়ান: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কতটা সংঘাতপূর্ণ, তা নিচের পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট:

  • ১৮ ডিসেম্বর: ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা।

  • ২৪ ডিসেম্বর: রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা।

  • ২৯ ডিসেম্বর: পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় ব্রজেন্দ্র বিশ্বাসকে গুলি করে খুন।

  • ৩১ ডিসেম্বর: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা।

  • ৫ জানুয়ারি: রানা প্রতাপ বৈরাগী ও মণি চক্রবর্তীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

বিস্ফোরক হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ: সংগঠনের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাস থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের দেশছাড়া করতে বা ভয় দেখাতে এই পথ বেছে নিয়েছে।

প্রশাসনের ব্যর্থতা ও ভারতের উদ্বেগ: উগ্র ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারত এই ঘটনাগুলোতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও বাংলাদেশের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ওপার বাংলায় এই রক্তক্ষয়ী অধ্যায় থামবে কবে, এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন সাধারণ মানুষ।