‘আমি এখনও প্রেসিডেন্ট,’ মার্কিন কোর্টে মাথা নোয়ালেন না মাদুরো, জেনেনিন কি বললেন?

বিশ্ব রাজনীতিতে চরম নাটকীয়তা! মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’-এর মাধ্যমে অপহৃত হওয়ার পর, সোমবার নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে জেলের পোশাকে এবং শিকলবন্দি অবস্থায় হাজির করা হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। মাদক-সন্ত্রাসবাদ ও পাচারের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এজলাসেই হুঙ্কার ছাড়লেন তিনি— “আমাকে কারাকাসের বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছে, আমিই ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট!”
আদালতে মাদুরোর লড়াই: মাদুদো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। মাদুরোর আইনজীবী স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা এখনই কোনো জামিনের আবেদন করছেন না। বিচারকের সামনে মাদুরো দাবি করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাঁকে বন্দি করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ মার্চ ধার্য করা হয়েছে।
কারাকাসে রক্তক্ষয়ী অস্থিরতা ও ড্রোন হামলা: মাদুরো যখন নিউ ইয়র্কের আদালতে, ঠিক তখনই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শুরু হয়েছে নতুন অশান্তি। সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের (মিরাফ্লোরেস প্রাসাদ) ওপর দিয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ড্রোন উড়তে দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে সেই ড্রোনগুলিকে নামানোর চেষ্টা করলে পুরো এলাকায় প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের শপথ: অস্থিরতার মাঝেই ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি মাদুরো দম্পতিকে দেশের ‘প্রকৃত নায়ক’ বলে অভিহিত করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন— “ভেনেজুয়েলা আর কারও দাস থাকবে না।” আমেরিকার দায় অস্বীকার ও আন্তর্জাতিক চাপ: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) এই ঘটনা নিয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। কলম্বিয়া ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো মার্কিন এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন বলে সরব হয়েছে। তবে সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস স্পষ্ট জানিয়েছে যে সোমবার রাতের কারাকাসের গোলাগুলির সাথে আমেরিকার কোনো যোগসূত্র নেই। তারা কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
আগামী দিনগুলোতে কী হতে পারে? তেল সমৃদ্ধ এই দেশটিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরির সম্ভাবনা প্রবল। রাশিয়ার কড়া অবস্থান এবং ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধের আবহে দক্ষিণ আমেরিকা এখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।