“অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়”, প্রতিষ্ঠা দিবসে লড়াইয়ের ডাক মমতার; কাল থেকেই বারুইপুরে অভিষেক

২০২৬ সালে পা রাখতেই যুদ্ধের দামামা বেজে গেল বাংলার শাসক শিবিরের অন্দরে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসেই দলীয় নেতা-কর্মীদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “কোনও অপশক্তির কাছে মাথা নত নয়, সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই মানুষের জন্য সংগ্রাম চলবে।” অন্যদিকে, দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী লড়াইয়ের জন্য কর্মীদের নব উদ্যমে প্রস্তুত হওয়ার ডাক দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠা দিবসের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার থেকে ময়দানে নেমে পড়ছেন অভিষেক। কালই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে তাঁর হাইভোল্টেজ সভা। এরপর গোটা জানুয়ারি মাস জুড়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্র ঝোড়ো সফর করবেন তিনি। সূচি অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি, ৬ জানুয়ারি বীরভূম, ৭ জানুয়ারি উত্তর দিনাজপুর এবং ৮ জানুয়ারি মালদহে সভা করবেন তিনি। এরপর রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, বনগাঁ হয়ে ১০ জানুয়ারি তাঁর গন্তব্য জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর। মাসজুড়েই কলকাতা থেকে শুরু করে কোচবিহার, তমলুক ও মেদিনীপুরেও জনসভা করবেন অভিষেক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বাংলার রাজনীতির ‘ভরকেন্দ্র’গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন অভিষেক। একদিকে যখন রাজ্যজুড়ে জনসংযোগের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি, অন্যদিকে দিল্লির ময়দানেও সক্রিয় তিনি। বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অভিষেক ও তৃণমূলের ১০ সাংসদের প্রতিনিধি দল। এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত বিষয়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে তাঁর আলোচনা বেশ উত্তপ্ত পর্যায়ে পৌঁছায় বলেও জানা গিয়েছে। স্পষ্টতই, দিল্লি থেকে জেলা— ২০২৬-এর লড়াইয়ে তৃণমূলকে জেতাতে এখন সব ফ্রন্টে কমান্ড সামলাচ্ছেন অভিষেকই।