হাঁটাচলার ক্ষমতা নেই, অথচ বিডিও অফিসে ডাক! বাঁকুড়ার শিবনাথবাবুর উদ্বেগ কি মেটাবে কমিশন?

ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এর শুনানিতে ডাক পাওয়া নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যাঁদের বয়স ৮০ বা ৮৫ অতিক্রম করেছে এবং যাঁরা শারীরিক অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী, তাঁদের কীভাবে শুনানিতে সশরীরে হাজিরা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির অন্যতম উদাহরণ বাঁকুড়া শহরের কাটজুড়িডাঙ্গার বাসিন্দা শিবনাথ পাল।
১৬ বছর বায়ুসেনায় এবং ২২ বছর গ্রামীণ ব্যাঙ্কে কাজ করা শিবনাথবাবু এখন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় প্রায় পঙ্গু। অথচ আগামী ৭ জানুয়ারি তাঁকে বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বিডিও অফিসের পরিকাঠামো অত্যন্ত তথৈবচ, সেখানে শৌচালয় বা পানীয় জলের সঠিক ব্যবস্থা নেই। এমতাবস্থায় একজন অসুস্থ বৃদ্ধকে সেখানে নিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব।
তবে সূত্রের খবর, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের কষ্ট লাঘব করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৮৫ ঊর্ধ্ব ভোটারদের শুনানি তাঁদের বাড়িতে গিয়েই করা হতে পারে। এছাড়া যাঁরা একদমই শয্যাশায়ী, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘ভার্চুয়াল শুনানি’ বা ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা ভাবা হচ্ছে।
এর আগে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে ৮০ ঊর্ধ্বদের বাড়ি গিয়ে ভোট নেওয়ার নজির গড়েছিল কমিশন। এবার শুনানির ক্ষেত্রেও সেই মানবিক মুখ দেখা যাবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে শিবনাথ পালের মতো হাজার হাজার প্রবীণ মানুষ। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। বর্তমানে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তত ৮টি জায়গায় স্কুল ও সরকারি অফিসে শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত নির্দেশিকা এলে প্রবীণদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।