বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন রণক্ষেত্র কাণ্ড, আন্তর্জাতিক যোগের দাবি ওড়ালো আদালত, ১২ বিক্ষোভকারীর জামিন!

বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আঁচ এবার আছড়ে পড়ল কলকাতার বুকেও। গত মঙ্গলবার পার্ক সার্কাসের বেকবাগান এলাকায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে হওয়া উত্তাল বিক্ষোভের ঘটনায় ধৃত শেষ ১২ জন আন্দোলনকারীরও জামিন মঞ্জুর করল আদালত। শুক্রবার আলিপুর আদালত তিন হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তির নির্দেশ দেয়। এই মামলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৭ জন আগেই জামিন পেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দীপু হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেকবাগান এলাকা। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন এবং পুলিশের দিকে জ্বলন্ত কুশপুতুল ছুড়ে মারেন। এই সংঘর্ষে ৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হন। পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১৯ জনকে গ্রেফতার করে। বুধবার এদের মধ্যে ১২ জনকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল।
এদিন শুনানিতে সরকারি আইনজীবী ধৃতদের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়ে দাবি করেন যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো “আন্তর্জাতিক যোগসাজশ” আছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আদালতে সওয়াল করেন, “আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য ছিল হাই কমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। এমনভাবে পুলিশকে মারা হয়েছে যে তাঁরা এখনও কাজে যোগ দিতে পারছেন না।” এমনকি একই সংগঠন পুনরায় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করে পুলিশ।
পাল্টা সওয়ালে অভিযুক্তদের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ খুনের চেষ্টার (Attempt to Murder) ধারা যুক্ত করেছে, কিন্তু দু’দিনের তদন্তে তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ কি মিলেছে?” বিচারক উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর পুলিশের হেফাজতের আবেদন নাকচ করে দেন এবং ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের নির্দেশে তাঁদের তদন্তে সহযোগিতা করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। কলকাতার রাজপথে ঘটা এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের অস্থিরতা কতটা স্পর্শকাতর প্রভাব ফেলছে এপার বাংলাতেও।