‘আই হ্যাভ আ ড্রিম!’ ১৭ বছর পর ঢাকা ফিরেই জনসমুদ্রে তারেক রহমান, ২০২৬-এর নির্বাচন নিয়ে বড় বার্তা

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, বাংলাদেশে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে ঘিরে কয়েক লক্ষ মানুষের যে উন্মাদনা দেখা গেল, তাকে এক কথায় ‘ঐতিহাসিক’ বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত জনজোয়ারে ভেসে তারেক রহমান তাঁর প্রথম জনসভায় ঘোষণা করেন, “আমার দেশের মানুষের জন্য আমার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি মানুষের সহযোগিতা লাগবে।”
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই নির্বাচনে বিএনপি যে প্রধান দাবিদার, তা তারেকের প্রত্যাবর্তনে আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে এর মাঝেই ভারতে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অডিও বার্তায় হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, “নির্বাচনের নামে একটা প্রহসন হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ৫০ শতাংশ ভোট বাদ দিয়ে কার ভোট করতে চায় তারা? ইউনুসের মতো ফ্যাসিস্ট ও জঙ্গিদের ক্ষমতা থেকে হঠিয়ে স্বাধীনতার চেতনা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ও তাঁর ‘স্বপ্ন’ নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে বৌদ্ধিক মহলে। লেখিকা তসলিমা নাসরিন যেমন তাঁর ভাষণের সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “মার্টিন লুথার কিং-এর মতো ‘I have a dream’ উক্তিটি তারেক ব্যবহার করলেও, তিনি কতটা বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পারবেন তা নিয়ে আমি সন্দিহান।” অন্যদিকে, অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তী মনে করেন, তারেক যদি তৃণমূল স্তর থেকে সংগঠন চালিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তবে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে। ডক্টর ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল থেকে শুরু করে ২০২৬-এর নির্বাচন—তারেকের এই পদযাত্রা ও শেখ হাসিনার অডিও বার্তা যে ওপার বাংলার পরিস্থিতিকে ফের উত্তপ্ত করে তুলবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।