ভ্যাকসিনের ৪ ডোজ সত্ত্বেও মৃত্যু ৬ বছরের শিশুর! মহারাষ্ট্রের এই ঘটনা র‌্যাবিস নিয়ে বাড়াল আতঙ্ক

খেলতে খেলতে কুকুরের কামড়, তারপর নিয়ম মেনে চার ডোজ ভ্যাকসিন—সবই হয়েছিল ঠিকঠাক। এমনকি চিকিৎসার মাঝেই ঘটা করে নিজের ষষ্ঠ জন্মদিনও পালন করেছিল মহারাষ্ট্রের ঠাণের নিশা শিন্ডে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ভ্যাকসিনের রক্ষাকবচ ভেদ করেই শরীরে থাবা বসাল মারণ ভাইরাস র‌্যাবিস। নিশার এই মর্মান্তিক মৃত্যু ফের প্রশ্ন তুলে দিল, র‌্যাবিস বা জলাতঙ্ক কি তবে শুধুই ভ্যাকসিনে আটকানো অসম্ভব? নাকি সামান্যতম গাফিলতিতেই লুকিয়ে থাকে মৃত্যুফাঁদ?

গত ১৭ নভেম্বর দিবা এলাকায় বাড়ির সামনে খেলার সময় একটি পথকুকুর নিশার গাল ও কাঁধে কামড় দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করা হয় এবং অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের কোর্স শুরু হয়। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব স্বাভাবিক থাকলেও শেষ ডোজ নেওয়ার ঠিক একদিন পরই নিশার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্রবল জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং আচরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিছানায় মাথা ঠোকা থেকে শুরু করে মানুষকে আঁচড়ানোর মতো লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ১৬ ডিসেম্বর নিশা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।

চিকিৎসকদের মতে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও মৃত্যু হওয়ার পিছনে ৪টি প্রধান কারণ থাকতে পারে:

দেরিতে চিকিৎসা: কুকুরে কামড়ানোর পর প্রথম ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান প্রবাহমান জলে সাবান দিয়ে ধোয়া বাধ্যতামূলক। এতে ভাইরাসের লোড অনেকটা কমে যায়। সামান্য দেরি হলে ভাইরাস সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে ঢুকে পড়ে, যা পরে আর ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

কামড়ের স্থান: নিশার ক্ষেত্রে কামড় লেগেছিল গাল ও কাঁধে। মুখ, গলা বা হাতের মতো স্নায়ুসমৃদ্ধ অংশে কামড় দিলে ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। একে ‘হাই রিস্ক’ এলাকা বলা হয়।

ইমিউনোগ্লোবিউলিন (RIG): গভীর বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষত হলে শুধু ভ্যাকসিনে কাজ হয় না। সেক্ষেত্রে ‘র‌্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন’ সরাসরি ক্ষতস্থানে দেওয়া জরুরি। নিশার ক্ষেত্রে এটি দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: অনেক সময় শরীর সঠিক পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে না, ফলে ভ্যাকসিন তার কার্যকারিতা হারায়।

একবার র‌্যাবিসের উপসর্গ (যেমন হাইড্রোফোবিয়া বা জলাতঙ্ক) দেখা দিলে মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত। নিশার এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিল, সঠিক সময়ের পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতির চিকিৎসা না হলে ভ্যাকসিনও ব্যর্থ হতে পারে।