“একদম ঠিক হয়েছে”, চাকরি যেতেই কেন স্বস্তিতে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মুজকেরা? তোলপাড় মালদা

ভাগ্যের লিখন যেন আগেভাগেই পড়ে ফেলেছিলেন কালিয়াচক থানার সিভিক ভলান্টিয়ার মুজকেরা বিবি। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (JUP)-র হয়ে বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই তাঁকে সাসপেন্ড করেছে মালদা জেলা পুলিশ। তবে এই সাসপেনশনে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তিনি। বরং বুক বাজিয়ে বলছেন, “ভালোই হয়েছে, এবার নিশ্চিন্তে ভোটে লড়তে পারব।”

মুজকেরার স্বামী কুরবান আনসারি এলাকার পোড় খাওয়া রাজনীতিক। কংগ্রেস, তৃণমূল, মিম ঘুরে এখন তিনি হুমায়ুন কবীরের সেনাপতি। তাঁর দাবি, বৈষ্ণবনগরে তৃণমূল এবার তৃতীয় স্থানে চলে যাবে, লড়াই হবে সরাসরি বিজেপির সঙ্গে। মুজকেরার কথায়, “সিভিকের কাজ করার তেমন ইচ্ছে ছিল না। সাহেব (হুমায়ুন কবীর) যেভাবে বলবেন, সেভাবেই এগোব। এলাকার মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, জয় আমাদের নিশ্চিত।”

অন্যদিকে, এই নতুন সমীকরণকে গুরুত্ব দিতে নারাজ যুযুধান দুই পক্ষ। বিজেপির প্রভাবশালী নেতা তারক ঘোষের কটাক্ষ, “হুমায়ুন কবীর তৃণমূলেরই বি-টিম, আর এই প্রার্থীকে তো আমরা চিনিই না।” পাল্টা তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু হুমায়ুন কবীরকে ‘উন্মাদ’ আখ্যা দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন, “আগে ভোটে দাঁড়িয়ে নোটার থেকে বেশি ভোট পেয়ে দেখান, তারপর বড় কথা বলবেন।” সব মিলিয়ে, এক সিভিক ভলান্টিয়ারের প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে বৈষ্ণবনগরের ভোট ময়দান এখন সরগরম।