ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তপ্ত ঢাকা! সংসদ ভবন অভিযানের চেষ্টা জনতার, ইউনুস সরকারের দিকে ধেয়ে এল কঠিন প্রশ্ন।

বিতর্কিত মন্তব্য ও ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য বারবার চর্চায় আসা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ঢাকা। বন্দুকবাজের গুলিতে আহত হওয়ার কয়েকদিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কবিরত্ন কাজি নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। হাদির শেষ বিদায়ে একদিকে যেমন শোকের ছায়া, অন্যদিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে উঠল ক্ষোভের ঝড়।

“তুমি আমাদের বুকেই আছো”: আবেগী ড. ইউনুস হাদির জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোকজ্ঞাপন করেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন:

“প্রিয় ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো এবং বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, তুমি প্রত্যেক বাংলাদেশির হৃদয়ে থাকবে। আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করছি, তোমার অসমাপ্ত স্বপ্ন আমরা পূরণ করবই।”

সীমান্ত পার নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন পরিবারের জানাজায় উপস্থিত হয়ে হাদির ভাই মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক প্রশাসনের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। জনসমক্ষে ঢাকার বুকে কীভাবে গুলি চলল এবং খুনিরা কীভাবে পুলিশের নজর এড়িয়ে ৫-৭ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মন্তব্য, “প্রকাশ্য দিবালোকে খুনি গুলি করে পার পেয়ে যাচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছুই হতে পারে না।”

সংসদ ভবন অভিযানের চেষ্টা ও রাজনৈতিক উত্তাপ হাদির জানাজা শেষে উত্তেজিত জনতা সংসদ ভবন চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করলে সেনার বাধার মুখে পড়ে। পরিস্থিতি সামলাতে শাহবাগ চত্বরে বিশাল পুলিশ ও সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই হাদিকে খুন করা হয়েছে। হাদি হত্যার নেপথ্যে কোনো বড় শক্তির হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় ওপার বাংলা।

ভারত-বিরোধী পোস্টের জন্য পরিচিত এই ছাত্রনেতার মৃত্যু এবং নজরুলের সমাধির পাশে তাঁর শেষ শয্যা—দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।