বিতর্ক মাথায় নিয়েই নজরুলের পাশে হাদির সমাধি! উত্তাল বাংলাদেশ, পরিস্থিতি সামাল দিতে নামল সেনা।

প্রবল জনরোষ এবং দেশজুড়ে বিতর্কের মাঝেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হলো বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতা শরিফ ওসমান হাদির। প্রশাসনের একাংশ এবং বিশিষ্ট মহলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত পরিবারের দাবি মেনে বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের কবরের পাশেই তাঁকে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার ঢাকার মানিক মিঞাঁ অ্যাভিনিউতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

সম্প্রীতির কবির পাশে চরমপন্থী নেতা? অসাম্প্রদায়িক ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে হাদির মতো বিতর্কিত নেতাকে জায়গা দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অন্দরেই ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। অনেকের মতে, নজরুলের দর্শনের সঙ্গে হাদির চরমপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের কোনও মিল নেই। এই সিদ্ধান্তের ফলে সম্প্রীতির বাতাবরণ নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমাজকর্মীদের একাংশ।

জনসমুদ্রের মাঝে শেষ বিদায় শনিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। সকাল থেকেই ঢাকার মানিক মিঞাঁ অ্যাভিনিউ এবং সংসদ ভবন চত্বরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে শুরু করেন। হাদির অনুরাগী থেকে শুরু করে বিএনপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও শেষকৃত্যে সামিল হন। জমায়েত থেকে হাদির হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়। সংগঠনের তরফে নির্দেশ ছিল, অশান্তি এড়াতে কেবল জাতীয় পতাকা হাতে রাখা যাবে, অন্য কোনও দলীয় পতাকা নয়।

থমথমে বাংলাদেশ: সক্রিয় সাইবার নিরাপত্তা শনিবার দুপুর পর্যন্ত নতুন কোনও বড় অশান্তির খবর না মিললেও সারা দেশেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কয়েকদিন আগেই চট্টগ্রামে ভারতীয় উপ-হাইকমিশন আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জওয়ানদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে কোনও রকম ‘আপত্তিকর পোস্ট’ বা গুজব ছড়ালে তা দ্রুত সাইবার সিকিউরিটি সেলকে জানানোর অনুরোধ করেছে প্রশাসন।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা প্রতিনিয়ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হাদির মৃত্যুর পর থেকে হিন্দু-সহ অন্য সংখ্যালঘুদের ওপর নতুন করে আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যে নজরুলের পাশে হাদির সমাধি জনমানসে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।