ব্যক্তিগত জীবনে ‘অসদাচরণ’, দল থেকে বহিষ্কৃত সিটু নেতা ইন্দ্রজিৎ ঘোষ! সিপিএম-এর অভ্যন্তরে কি বড় কোনো কেলেঙ্কারি?

শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রশ্নে কোনো আপস নয়— এই কড়া বার্তা দিয়েই সিটুর অন্যতম পরিচিত মুখ এবং দলের রাজ্য কমিটির সদস্য ইন্দ্রজিৎ ঘোষকে বহিষ্কার করল সিপিএম। দলের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই বহিষ্কার? দলীয় সূত্রে খবর, ইন্দ্রজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত জীবনে অসদাচরণ’-এর একাধিক গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল। সিপিএম-এর গঠনতন্ত্রের ১৯ (চ) ধারা অনুযায়ী, নৈতিক অবক্ষয় বা ব্যক্তিগত অসদাচরণের দায়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষাপট:

আন্দোলনের মুখ: ডিওয়াইএফআই (DYFI) থেকে উঠে আসা এই নেতা কলকাতায় অ্যাপ-ক্যাব সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এছাড়া এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনেও তাঁকে প্রায়ই সামনের সারিতে দেখা যেত।

বিস্ফোরক স্ক্রিনশট ও অডিও: গত ফেব্রুয়ারি মাসে হুগলির ডানকুনিতে রাজ্য সম্মেলনের সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কানাঘুষো শুরু হয়। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে বেশ কিছু অডিও ক্লিপ ও স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বংশগোপাল ছায়া: আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই দলের ভেতর এই ধরণের অভিযোগ নিয়ে বিশেষ তদন্ত কমিটি (Internal Complaints Committee) সক্রিয় হয়েছিল। সেই তদন্তেরই প্রথম বড় বলি হলেন ইন্দ্রজিৎ।

আলিমুদ্দিনের কড়া অবস্থান: রবিবার বামেদের ব্রিগেড সমাবেশের রেশ কাটতে না কাটতেই এই সিদ্ধান্ত আলিমুদ্দিনের তরফে স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে নৈতিকতার প্রশ্নে কোনো কালিমা গায়ে মাখতে রাজি নয় দল। মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা— দলের বিভিন্ন স্তরের মহিলা কর্মীদের তোলা অভিযোগ খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য কমিটি।