সংসদে যুদ্ধ, স্পিকারের ঘরে বন্ধুত্ব! মোদী-প্রিয়াঙ্কার সৌজন্য বিনিময়, ওয়েনাডের ভেষজ ওষুধ নিয়ে খোশগল্প!

সংসদের ওয়েলে নেমে যখন বিরোধী সাংসদরা স্লোগান দেন, তখন মনে হয় শাসক-বিরোধী দূরত্ব যোজন যোজন। কিন্তু শুক্রবার শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিনে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ঘরে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে হালকা মেজাজে আড্ডা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কংগ্রেসের নবনির্বাচিত সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
ভেষজ ওষুধ ও ওয়েনাড চর্চা: আড্ডার অন্যতম আকর্ষণ ছিল মোদী-প্রিয়াঙ্কার সৌজন্য বিনিময়। নিজের কেন্দ্র ওয়েনাডের গল্প বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তাঁর অ্যালার্জির সমস্যা মেটাতে তিনি ওয়েনাডের একটি বিশেষ ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করেছেন। রাজনীতির লড়াই সরিয়ে রেখে দুই নেতার এই ঘরোয়া আলোচনা উপস্থিত বাকি সাংসদদেরও নজর কেড়েছে।
মোদীর হালকা টিপ্পনি ও বিদেশের গল্প: অধিবেশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “বিরোধী ভাই-বোনেরা তো একের পর এক প্রতিবাদে ব্যস্ত ছিলেন, তাই আমি চাইনি তাঁদের কণ্ঠস্বরের ওপর বেশি চাপ পড়ুক।” হাসিমুখে তিনি এন কে প্রেমচন্দ্রনের মতো বিরোধী সাংসদদের কাজের প্রশংসাও করেন। পাশাপাশি নিজের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতায় ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মোদী। তিনি জানান, এই শহরটি জর্ডান বা দুবাইয়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
অধিবেশনের খতিয়ান: স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়েছেন, এবারের অধিবেশনে সংসদের উৎপাদনশীলতা ছিল ১১১ শতাংশ, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। যদিও অনেক সাংসদই আর্জি জানিয়েছেন যে, আরও কিছুদিন অধিবেশন চালানো যেত যাতে গভীর রাত অবধি জেগে আইন পাস করতে না হয়।
উপরাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ: অন্যদিকে উচ্চকক্ষে উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সদস্যদের ধন্যবাদ জানান এবং অধিবেশন সফল হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন।
সংসদের এই সৌজন্যের আবহ প্রমাণ করল যে, আদর্শগত লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে শিষ্টাচার আজও ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।