বাংলাদেশে মধ্যযুগীয় বর্বরতা! যুবককে পিটিয়ে মেরে খুঁটিতে ঝুলিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা, উত্তাল ময়মনসিংহ!

ছাত্র আন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যখন চরম অস্থিরতা চলছে, ঠিক তখনই ময়মনসিংহ থেকে এক শিউরে ওঠা গণপিটুনির খবর সামনে এল। স্রেফ ধর্মীয় বিষয়ে একটি মন্তব্যের জেরে দীপুচন্দ্র দাস (২৫) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারল উত্তেজিত জনতা। এখানেই শেষ নয়, হত্যার পর তাঁর দেহ খুঁটিতে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার মতো চরম অমানবিক ঘটনাও ঘটেছে।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে? ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায়। দীপু স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কারখানার বাইরে বিশাল ভিড় জমা হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁকে কারখানা থেকে টেনে বের করে আনে এবং বেধড়ক মারধর শুরু করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের।

পৈশাচিকতা ও পুলিশের তৎপরতা: ভালুকা মডেল থানার পুলিশ আধিকারিক আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, পিটিয়ে মারার পর দীপুর দেহটি ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল। এরপর ভিড় আরও হিংস্র হয়ে ওঠে এবং একটি খুঁটিতে দেহটি ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বর্তমানে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিস্ফোরক তসলিমা নাসরিন: এই নারকীয় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন—

“ভালুকার দরিদ্র যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়েছে। না, কারও দুঃখ হয়নি, কারও হাত কাঁপেনি, কারও মন কাঁদেনি, কারও বিবেক জাগেনি।”

চাপে ইউনুস প্রশাসন: শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বারবার হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। এই ঘটনার পর ইউনুস সরকার একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, “নতুন বাংলাদেশে এই ধরণের হিংসার কোনো স্থান নেই। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।”

পরিসংখ্যান বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে গণপিটুনি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ময়মনসিংহের এই পৈশাচিক ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।