ওপার বাংলায় দাউ দাউ আগুন! ভারতীয় দূতাবাসে হামলার ছক? ইউনুস সরকারকে নিয়ে বিস্ফোরক হাসিনা-ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী!

হাসিনা-বিরোধী নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। দেশজুড়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ আর চরম নৈরাজ্যের মাঝেই এবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি। তাঁর দাবি, ড. মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে এবং নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে দেশে অশান্তি উসকে দিচ্ছে।

‘ভারত বিরোধিতাকে উসকানি দিচ্ছে সরকার’ সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মহিবুল হাসান অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারত-বিরোধী জনরোষ তৈরি করা হচ্ছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়:

“ওসমান হাদি একজন কট্টরপন্থী ছিলেন যিনি সবসময় রক্তপাতের কথা বলতেন। এখন তাঁর মৃত্যুকে হাতিয়ার করে ভারতীয় দূতাবাসে হামলার ছক কষা হচ্ছে, যাতে দিল্লি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে এবং সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অজুহাত পায়।”

পুলিশ ও সেনাকে ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকার নির্দেশ? মহিবুল হাসানের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার উন্মত্ত জনতাকে মদত দিচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি মন্ত্রীর নিজের বসতভিটাতেও অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ইউনুস সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো— দেশে এমন এক অরাজকতা সৃষ্টি করা যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা নির্বাচনের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

কেন টার্গেট ভারতীয় দূতাবাস? প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশে একদল কট্টরপন্থী চাইছে ভারতীয় দূতাবাস চিরতরে বন্ধ হয়ে যাক। আর এই কট্টরপন্থী মনোভাবকেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে বর্তমান প্রশাসন। ওসমান হাদির মৃত্যুর সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের কোনো যোগসূত্র না থাকলেও, পরিকল্পিতভাবে বিক্ষোভকে সেই দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।

বাংলাদেশে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই হিংসা ও ভারত-বিদ্বেষী মনোভাব প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে ঢাকার অবস্থান আরও প্রশ্নের মুখে পড়ল।