প্লাটফর্মেই শুরু প্রসব যন্ত্রণা! দেবদূতের মতো ছুটে এলেন ডাক্তার, ব্যান্ডেল স্টেশনে জন্ম নিল ফুটফুটে কন্যা!

তীব্র প্রসব যন্ত্রণায় প্ল্যাটফর্মেই শুয়ে পড়েছেন এক গর্ভবতী মহিলা। চারদিকে ট্রেনের শব্দ আর ব্যস্ত মানুষের ভিড়। ঠিক এই সংকটজনক মুহূর্তে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন পূর্ব রেলওয়ের এক তরুণ চিকিৎসক এবং আরপিএফ কর্মীরা। ব্যান্ডেল রেলওয়ে স্টেশনে এক নবজাতকের নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন করে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল রেলের চিকিৎসা বিভাগ।
প্ল্যাটফর্ম যখন ‘লেবার রুম’ জানা গিয়েছে, সুমিত্রা নামে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় হঠাৎই তীব্র প্রসব যন্ত্রণা অনুভব করেন। অসহায় অবস্থায় তিনি প্ল্যাটফর্মেই বসে পড়েন। খবর পৌঁছায় ব্যান্ডেল স্বাস্থ্য ইউনিটে। দেরি না করে সদ্য কাজে যোগ দেওয়া চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক ড. অয়ন চট্টোপাধ্যায় তাঁর প্যারামেডিক্যাল টিম নিয়ে অকুস্থলে ছুটে যান।
কাপড়ের ঘেরাটোপে সফল প্রসব পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্টেশনে কর্তব্যরত আরপিএফ এবং জিআরপি কর্মীরা তৎপর হয়ে ওঠেন। মহিলা আরপিএফ কর্মীরা দ্রুত কাপড় দিয়ে একটি অস্থায়ী আড়াল তৈরি করেন। কনকনে শীতের প্রতিকূলতাকে জয় করে ড. চট্টোপাধ্যায়ের দক্ষতায় প্ল্যাটফর্মেই ফুটফুটে এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সুমিত্রা।
বর্তমানে স্থিতিশীল মা ও শিশু প্রসবের পর জিআরপির তৎপরতায় একটি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়। মা ও নবজাতককে দ্রুত চুঁচুড়া স্টেট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ এবং স্থিতিশীল আছেন।
রেল কর্তৃপক্ষের এই মানবিক পদক্ষেপ এবং চিকিৎসক ড. অয়ন চট্টোপাধ্যায়ের পেশাদারিত্বকে কুর্নিশ জানিয়েছেন ব্যান্ডেল স্টেশনের নিত্যযাত্রীরা। বিপদের মুহূর্তে রেলের এই তৎপরতা আরও একবার প্রমাণ করল— ‘পরিষেবাই পরম ধর্ম’।