বিপদ কি আরও বাড়ছে? মাইথন-পাঞ্চেত বাঁধে নামছে বিদেশের ‘এআই’ ড্রোন! ঘুম ছুটল ঝাড়খণ্ড ও বাংলার!

ডিভিসির বাঁধ নিয়ে বাংলার উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। বর্ষা এলেই মাইথন বা পাঞ্চেত থেকে জল ছাড়া এবং তা নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু এবার সেই পুরনো সমস্যার সমাধানে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC)। সৌজন্যে— আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)।
বিদেশের বিশেষজ্ঞ দল এখন ভারতে ডিভিসির জলাধারগুলোর স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে কানাডা এবং জার্মানি থেকে ৬ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল ভারতে এসে পৌঁছেছে। এই দলে রয়েছেন টার্নার গুলিকসন, আর্টেম শেভচেঙ্কোর মতো বিশ্বখ্যাত সার্ভেয়াররা। তাঁদের মূল অস্ত্র হলো এআই-সজ্জিত ড্রোন। এই ড্রোনগুলি দিয়ে মাইথন, পাঞ্চেত, তিলৈয়া এবং কোনার ড্যামের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করা হবে।
কী এই ‘স্ট্রাকচারাল সেফটি সার্ভে’? বাঁধের বয়স বাড়লে তাতে ফাটল বা কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। ডিভিসি সূত্রে খবর, জার্মানির এআই প্রযুক্তি এবং কানাডার বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ড্রোনগুলো বাঁধের এমন সব অংশ স্ক্যান করবে, যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না। ড্যামের দেওয়ালে কোনো সূক্ষ্ম ফাটল আছে কি না বা সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখে একটি রিপোর্ট পেশ করবে এই দল।
বাঁধের ‘আয়ু’ নিয়ে সংশয় কি কাটবে? ইতিহাস বলছে, ১৯৫৭ সালে মাইথন এবং ১৯৫৯ সালে পাঞ্চেত বাঁধ তৈরি হয়েছিল। সেই সময়ে এই বাঁধগুলোর আয়ু ধরা হয়েছিল ১০০ বছর। হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে এগুলোর বয়স ৬৬ থেকে ৬৮ বছর। অর্থাৎ হাতে আছে মাত্র তিন দশকের কিছু বেশি সময়। যদিও ডিভিসি চেয়ারম্যান এস সুরেশ কুমার আশ্বস্ত করেছেন যে, ইতিপূর্বে হওয়া পরীক্ষায় দেখা গেছে এই বাঁধগুলো অন্তত আরও ৭০ বছর অনায়াসেই টিকে থাকবে। তবে এবারের এআই সার্ভে সেই নিশ্চয়তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সংঘাতের আবহে নতুন দিশা ডিভিসির জল ছাড়ার ফলে প্রতিবছর বর্ধমান, হুগলি-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা প্লাবিত হয়। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, না জানিয়ে জল ছাড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়। অন্যদিকে ডিভিসির দাবি, ঝাড়খণ্ডে প্রবল বৃষ্টি হলে বাঁধ রক্ষা করতে জল ছাড়া ছাড়া উপায় থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অত্যাধুনিক সার্ভে রিপোর্ট হাতে পেলে জল ধারণ ক্ষমতা এবং বাঁধের শক্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে, যা ভবিষ্যতে বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ইতিহাসের পাতায় ডিভিসি ১৯৪২-এর বিধ্বংসী বন্যার পর ব্রিটিশ আমলে এই বাঁধের পরিকল্পনা করা হলেও, তা বাস্তবায়িত হয় স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর হাত ধরে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম ভূগর্ভস্থ পাওয়ার স্টেশন মাইথনেই অবস্থিত। সেই ঐতিহ্যের সুরক্ষায় এবার বিদেশের হাই-টেক প্রযুক্তিতেই ভরসা রাখছে কর্তৃপক্ষ।