“আমাদের চামড়া কি গণ্ডারের চেয়েও মোটা?” বাংলাদেশে হিন্দু খুনে এবার বাঙালি আত্মপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তথাগত রায়ের

বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু যুবক দীপু দাসকে পিটিয়ে ও জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার হাড়হিম করা দৃশ্য নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। এই ঘটনায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট করেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁর নিশানায় যেমন ওপার বাংলার অরাজকতা, তেমনই এপার বাংলার রাজনীতি।
তথাগত রায়ের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলি:
বাংলাদেশের পরিস্থিতি: তথাগত রায় লিখেছেন, “ভিখারীর দেশ বাংলাদেশে অরাজকতা। এর মানেই নির্বিচারে বাঙালি হিন্দু খুন ও ধর্মস্থান অপবিত্র করা।” এই গোটা প্রক্রিয়ার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুসের সমর্থন আছে বলেও দাবি করেন তিনি।
দীপু দাস হত্যাকাণ্ড: দীপু দাসের ওপর হওয়া নির্যাতনের ভিডিও যারা তুলেছে, তাদের তিনি ‘পিশাচ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, এই বীভৎসতা দেখার পরেও কি আমাদের চৈতন্য হবে না?
বাঙালি হিন্দু বনাম বাঙালি মুসলমান: তথাগত রায়ের মতে, বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমানের রাজনৈতিক স্বার্থ, সমাজব্যবস্থা, খাদ্য, বেশভূষা এমনকি ভাষা পর্যন্ত এক নয়। তিনি মনে করেন, “আমরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছি বাঙালি মুসলমানের হাতে।”
পশ্চিমবঙ্গ ও মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ: তথাগত রায় অভিযোগ করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে বাংলাদেশের মতো হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদিমা’ সম্বোধন করে তিনি কটাক্ষ করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী কেবল বিজেপি-কে ‘বাঙালি বিরোধী’ বলে প্রচার চালাচ্ছেন, অথচ আসল বিপদ চিনতে পারছেন না।
তথাগত রায়ের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। “আমরা সবাই মানুষ”—এই ধারণাকে ‘অন্তঃসারশূন্য বুলি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি হিন্দুদের নিজেদের আলাদা অস্তিত্ব ও স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার ডাক দিয়েছেন।