“পুলিশ দিয়ে আন্দোলন আটকানো যাবে না!” হিঙ্গলগঞ্জ থেকে শাসক দলকে চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর

শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ঘিরে দিনভর নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে সভার অনুমতি দেওয়া না হলেও, আইনি লড়াইয়ে জয় পায় বিজেপি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে মিছিল করার অনুমতি পান শুভেন্দু অধিকারী।

পুলিশি বাধা ও আইনি জয়: বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুভেন্দু অধিকারীর সভায় বারবার বাধা দিচ্ছে রাজ্য পুলিশ। হিঙ্গলগঞ্জে জনসভা করতে বাধা দেওয়া হলে বিজেপি আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত শেষ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দিলেও জনসভার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। এরপরই বিশাল কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জের রাস্তায় নামেন বিরোধী দলনেতা।

শুভেন্দুর কড়া আক্রমণ: মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলি ছিল:

শাসক দলকে হুঁশিয়ারি: তিনি বলেন, “পুলিশকে রাজনৈতিক দাসে পরিণত করেছে শাসক দল। কিন্তু আদালতের হস্তক্ষেপে আজ হিঙ্গলগঞ্জের মানুষ তাঁদের অধিকার ফিরে পেয়েছেন।”

উন্নয়ন ও দুর্নীতি: উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত এলাকায় সোনা পাচার থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি— একাধিক ইস্যুতে শাসক দলকে বিঁধলেন তিনি।

ভোটের প্রস্তুতি: আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলা থেকেই তৃণমূলের পতনের শুরু হবে বলে দাবি করেন তিনি।

তৃণমূলের পাল্টা: পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “শুভেন্দু অধিকারী নাটক করছেন। যে এলাকায় সভা করার কথা বলছেন, সেখানে উত্তেজনা ছড়ানোর ছক ছিল বিজেপির। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে মাত্র।”

হিঙ্গলগঞ্জের এই মিছিলকে কেন্দ্র করে শীতের দুপুরেও উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।