“বাংলাদেশ এখন জিহাদিস্তান!” ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে তাণ্ডব ও হিন্দু যুবক খুনের ঘটনায় ফেটে পড়লেন তসলিমা নাসরিন

প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে অরাজকতার আগুন বেড়েই চলেছে। ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে বীভৎস তাণ্ডব শুরু হয়েছে, তা নিয়ে এবার সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতির আড়ালে রয়েছে এক গভীর পরিকল্পিত জিহাদি চক্রান্ত।
নৃশংস হত্যার বিবরণ: তসলিমা নাসরিন তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেছেন, একজন জিহাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার চরমপন্থী দেশজুড়ে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে। সবচেয়ে হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহে। লেখিকার দাবি, এক জিহাদির মৃত্যুর ‘বদলা’ নিতে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে গাছে বেঁধে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, এই নৃশংসতায় কোনও অনুশোচনা নেই, বরং ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি তুলে উল্লাস প্রকাশ করেছে হামলাকারীরা। তসলিমার মতে, এটাই হলো চরমপন্থার আসল ও ভয়ংকর চেহারা।
সংবাদমাধ্যমের দপ্তরে অগ্নিসংযোগ: বিক্ষোভের আঁচ থেকে রেহাই পায়নি সংবাদমাধ্যমও। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ এবং ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর দপ্তরে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। ভাঙচুর চালানোর পর অফিস দুটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মৌলবাদীদের এই তাণ্ডবে কার্যত স্তম্ভিত আন্তর্জাতিক মহল।
কে এই ওসমান হাদি? উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। আসন্ন ১২ই ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে ঢাকা-৮ কেন্দ্র থেকে তাঁর নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ার কথা ছিল। গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শনিবার একদিনের ‘রাষ্ট্রীয় শোক’ ঘোষণা করেছে।
অনিশ্চয়তায় ওপার বাংলা: তসলিমা নাসরিনের মতে, বাংলাদেশ এখন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। যে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পট পরিবর্তন হয়েছিল, তা এখন চরমপন্থীদের দখলে চলে গিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা বাংলাদেশকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।