পার্ক স্ট্রিটে খুশির জোয়ার! অ্যালেন পার্কে ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন মমতার, নতুন বছরের আগেই উৎসবের সাজে তিলোত্তমা

ঘড়ির কাঁটা বলছে বড়দিন আসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। কিন্তু তার আগেই খুশির মেজাজে ধরা দিল তিলোত্তমা। প্রতি বছরের মতো এবারও পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে বর্ণাঢ্য ‘ক্রিসমাস ফেস্টিভ্যাল’-এর সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করে তিনি সকলকে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
উৎসবই যখন চিন্তা মুক্তির উপায়: উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষের জীবনে অনেক সমস্যা ও চিন্তা রয়েছে। সেই দুশ্চিন্তা থেকে একমাত্র উৎসবই পারে আমাদের মুক্তি দিতে এবং মানসিক প্রশান্তি জোগাতে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ২০১১ সাল থেকে এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে এবং এবছর এটি ১৫তম বছরে পা দিল। ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব চলবে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেও বড়দিন: এবার শুধুমাত্র কলকাতাতেই নয়, দার্জিলিং, কালিম্পং, চন্দননগর, ব্যান্ডেল, কৃষ্ণনগর, ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া সহ রাজ্যের আরও ১৪টি জায়গায় একযোগে ক্রিসমাস উৎসবের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাহাড় থেকে সমতল— বড়দিনের আনন্দে মাতবে গোটা বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, “বাংলা সব ধর্মকে সম্মান করে, সব উৎসব পালন করে।”
পার্ক স্ট্রিটে বিশেষ ব্যবস্থা: বড়দিন উপলক্ষে পার্ক স্ট্রিট এলাকাকে রঙিন আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। থাকবে অসংখ্য খাবারের দোকান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভিড় সামলাতে ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর অ্যালেন পার্কের সামনের রাস্তাটি ‘ওয়াকিং স্ট্রিট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, অর্থাৎ ওই সময়ে সেখানে কেবল হেঁটে যাতায়াত করা যাবে। উৎসব যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরোধীদের কড়া জবাব: উৎসবের মঞ্চ থেকে বিরোধীদের আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অনেকেই বাংলার বদনাম করার চেষ্টা করে। কিন্তু বাংলার মানুষ শান্তিপ্রিয় ও উৎসবপ্রেমী। দার্জিলিং থেকে কলকাতা— সর্বত্র মানুষ শান্তিতে আনন্দ করছে, এটাই বাংলার আসল রূপ।”
সব মিলিয়ে আলোর মালায় সেজে ওঠা পার্ক স্ট্রিট এখন বড়দিনের কেক আর খুশির গন্ধে মাতোয়ারা।